১৪ মে ২০২৩
তুরস্কে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন: বিশ্লেষকের অভিমত
তুরস্কে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন আসছে ১৪ মে। এরইমধ্যে ২৭ এপ্রিল থেকে দেশের বাইরে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। ৯মে পর্যন্ত সারা বিশ্বের ৭৫ টি কূটনৈতিক মিশনের অধীনে ১৫৬ টি ভোট কেন্দ্রে প্রবাসী তুর্কিদের ভোট গ্রহণ চলবে।
তুরস্কের পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬ কোটি ৪১ লাখ ১৩ হাজার ৯৪১ ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে রায় দেবেন। এর মধ্যে ৩৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৯৮ ভোটার দেশের বাইরে বসবাস করে।
১৪ মে'র প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যদি দ্বিতীয় দফায় গড়ায় তাহলে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৮ মে তারিখে। তুরস্কের ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট, পিপলস অ্যালায়েন্সের প্রার্থী রজব তাইয়্যেব এরদোগান এবং রিপাবলিকান পিপলস পর্টির নেতা কিলিচদারোগলুর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বান্দ্বতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ দু'জনের বাইরে মুহাররম ইন্জে এবং সিনান উগানও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লড়ছেন। এই দুই প্রার্থী মেল্লাত জোট থেকে বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এরদোগান সরকারের বিরোধী জোটের এই দুই প্রার্থীর প্রেসিডেন্ট পদে জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে তাদের প্রার্থিতার কারণে কেমাল কিলিচদারের ভোট কমারই সম্ভাবনা বেশি। প্রকৃতপক্ষে সিনান উগান এবং মুহররম ইঞ্জের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীতা জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রধান এরদোগানের পক্ষেই যাবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যদি এরদোগান বিজয় লাভ করে তাহলে বিরোধীদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে এই দুই প্রার্থীর নির্বাচনে প্রতিদ্বান্দ্বতাকেই মনে করা হবে।
এরদোগান দুই দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আসীন রয়েছেন। তিনি ক্ষমতায় এসে সংসদীয় পদ্ধতির পরিবর্তে প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করেছেন। কেলিচদারুগ্লু যদি নির্বাচিত হন তাহলে পশ্চিমাদের পরামর্শে পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এরদোগান ক্ষমতায় আসার প্রথমদিকে তুরস্কের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওই অবস্থার অবনতি অব্যাহত রয়েছে।
২০১৩ সালে তুরস্কের জাতীয় মাথাপিছু আয় ছিল সাড়ে ১২ হাজার ডলার। রাষ্ট্রপতি পদ্ধতিতে পরিবর্তনের পর এই মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ৮ হাজার ডলারে নেমে আসে। অবশেষে ব্যাপক চেষ্টা চালানোর পর ২০২২ সালে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ডলারে অর্থাৎ ২০১৩ সালের আয়ের পরিমাণ থেকে অনেক পিছিয়ে। এই ইস্যুটি এরদোগানের বিরোধীরা ব্যাপকভাবে তুলে ধরছে।
এবারের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুরস্কের ক্ষমতার হাল ধরবেন ১৪ মে'র নির্বাচনের ফলাফলই তা নির্ধারণ করবে।#
পার্সটুডে/এনএম/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।