৪৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরাইলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে
ইসরাইলের বৃহত্তম সমরাস্ত্র কারখানায় বিস্ফোরণের রহস্যময় কারণ
ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক স্থাপনা ও কল-কারখানাগুলোতে মাঝে-মধ্যেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।
ইরানের শিরাজ শহরে হযরত শাহচেরাগ-এর পবিত্র মাজারে তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস-এর সন্ত্রাসী হামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তেলআবিব থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এলবিইত সামরিক নির্মাণ স্থাপনায় খুব বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণ ছিল এত বড় রকমের যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আলোর ঝলকানি দেখা গেছে ও বিকট শব্দও শোনা গেছে বহু দূর থেকে।
ইসরাইলের বৃহত্তম সামরিক স্থাপনায় গত কয়েক মাসের মধ্যে এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো। ফলে বিশ্লেষকদের মধ্যে এ প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে যে ইহুদিবাদী ইসরাইল ও তার মদদদাতা পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করতে চাইলেও কেনো খোদ ইসরাইলেই নিরাপত্তাহীনতার বিস্তার রোধ করতে পারছে না, বরং সেখানে কেনো নিরাপত্তাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে?! ইহুদিবাদী ইসরাইলের ঘরোয়া রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এ ধরনের বড় বড় বিস্ফোরণ ঘটার কারণ বেশ রহস্যময় বা সন্দেহজনক। বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও কারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পেছনে কারা রয়েছেন- ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখনও তা শনাক্ত করতে পারেনি।
এলবিইত কমপ্লেক্স হচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অস্ত্র তৈরির সবচেয়ে বড় কারখানা। সোমবার কটা বিশ মিনিটের দিকে বিশাল বিস্ফোরণের ওই ঘটনার পর ঘটনাস্থলের দিকে বহু সংখ্যক এম্বুলেন্স বা এম্বুলেন্সের বহরকে ছুটে যেতে দেখা গেছে বলে খবর এসেছে। তাই মনে করা হচ্ছে সেখানে জান ও মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৪৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরাইলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ সময়ে হার্তজলিয়া অঞ্চলে দু'টি ও রাফায়েল কারখানায় একটি এবং সবশেষে এলবিইত কমপ্লেক্সে চতুর্থ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।
ইহুদিবাদী ইসরাইল পশ্চিমা এশিয়া অঞ্চলের ইসরাইল-বিরোধী প্রতিরোধকামী দেশ ও শক্তিগুলোকে দুর্বল করতে বেশ কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে কথিত আইএস বা দায়েশ সন্ত্রাসীদের শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কয়েক বছর আগের সেই ছবির স্মৃতিও এখনও মলিন হওয়ার কথা নয় যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে ইসরাইলি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে আহত তাকফিরি সন্ত্রাসী সেনারা! দায়েশ ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের বহু অঞ্চলে অনেক সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চালালেও কখনও ইসরাইলিদের দিকে বা ইসরাইলে একটি ঢিলও ছুড়েছে বলে কখনও শোনা যায়নি! দায়েশ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইসরাইলের জন্য অনেক বড় আশা ভরসার স্থল।
উল্লেখ্য এলবিইত সামরিক কমপ্লেক্সে ইসরাইল গোয়েন্দা-তথ্য প্রযুক্তির সাজসরঞ্জামসহ নানা ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধ-বিমান, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষার অস্ত্র ও রিমোট-কন্ট্রোল অস্ত্র এবং নৌ-বাহিনীর অস্ত্র সামগ্রীসহ নানা ধরনের সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করে থাকে। এই কারখানার নানা শাখা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, কলম্বিয়া ও ব্রাজিলে। এলবিইত ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির প্রাণকেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত। এই কারখানা রেমাত হাশারুন নামক বৃহৎ সামরিক প্রকল্পের আওতাধীন। এখানে নানা ধরনের বিস্ফোরক, গোলা-বারুদ ও অস্ত্র উৎপাদন করা হয়। প্রায় ৭৫০ হেক্টর এলাকা জুড়ে এই প্রকল্পের অবস্থান। এ অঞ্চলের আশপাশেও সাধারণ কোনো নাগরিকের প্রবেশ নিষেধ। তাই এমন বিশেষ এলাকায় বিস্ফোরণ বা হামলার ঘটনা খুবই বিস্ময়কর ঘটনা। তবে ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী এটা খুব ভালো করেই জানে যে ইরানের নিরাপত্তা বিরোধী কোনো ঘটনা জবাবহীন থাকবেনা ইরানের বা তার মিত্রদের পক্ষ হতে। এদিকে জেনিন এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের রকেট নিক্ষেপের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ জোরদারের অন্যতম অগ্রগতি হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।#