রাফা ক্রসিং এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল
যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের স্বেচ্ছাচারী নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ৮ মুসলিম দেশ
-
• গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি গণহত্যা
পার্সটুডে- আটটি আরব ও মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাফাহ ক্রসিং একতরফাভাবে খোলার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।
গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সরকারী কূটনৈতিক পর্যায় থেকে শুরু করে বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠন ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় তেল আবিবের উপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। পার্সটুডের এই প্রতিবেদনে, এই প্রতিক্রিয়াগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে: সরকারী কূটনীতি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর আইনি পদক্ষেপ।
ইসরায়েলি স্বেচ্ছাচারিতার নিন্দা এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি আটটি মুসলিম দেশের জোরালো সমর্থন
মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে রাফাহ ক্রসিং নিজের ইচ্ছেমতো পুনরায় চালু করার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। এই দেশগুলো সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, গাজার মানুষের দুর্ভোগের অবসান, মানবিক সাহায্যের অবাধ প্রবেশাধিকার এবং এখনই গাজা পুনর্গঠনের কাজ শুরুর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। তারা ফিলিস্তিনি জনগণকে বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনার নিঃশর্ত আনুগত্য এবং গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে গাজার দায়িত্ব পুনরায় ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যা দ্বিগুণ বেড়েছে
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত সরকারী পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে ২০২৩ সালের অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি সৈন্যদের মধ্যে আত্মহত্যার হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের বার্ষিক গড়ের তুলনায় আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে (প্রায় ১২টি ঘটনা)। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত, ২৮ জন সৈন্য আত্মহত্যা করেছে এবং ২০২৫ সালের শুরু থেকে কমপক্ষে আরও ২০ জন আত্মহত্যা করেছে। বিশেষজ্ঞরা এই আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধির জন্য ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ এবং কঠিন সংঘাতময় পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন।
ইউরোপীয় কূটনৈতিক চাপ এবং জনসাধারণের আইনি মামলা
কূটনৈতিক স্তরে, জার্মান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। জার্মান সরকারের মুখপাত্র এই পদক্ষেপগুলিকে আন্তর্জাতিক আইন এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন। এই সরকারী চাপের পাশাপাশি স্পেনের বার্সেলোনায় ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক গণ আদালত অনুষ্ঠিত হয়। "ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ পপুলার স্ট্রাগলসের সেক্রেটারি জেনারেল এজরা তালাত সাইদ এই আদালতে জোর দিয়ে বলেছেন: ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে বেঁচে থাকার ভিত্তিগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে তারা মাছ ধরার নৌকাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও কৃষি জমি ধ্বংস করছে যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হল এই অঞ্চলে জীবনের সম্ভাবনাকে নির্মূল করা। #
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।