মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ: পুতিনকে যুদ্ধাপরাধী বলে অভিহিত করলো বাইডেন
https://parstoday.ir/bn/news/world-i105342-মার্কিন_মনস্তাত্ত্বিক_যুদ্ধ_পুতিনকে_যুদ্ধাপরাধী_বলে_অভিহিত_করলো_বাইডেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রথমবারের মতো 'যুদ্ধাপরাধী' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ইউক্রেনকে নতুন করে আট শ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণার পর ওই মন্তব্য করেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ১৭, ২০২২ ১৪:৪২ Asia/Dhaka

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রথমবারের মতো 'যুদ্ধাপরাধী' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ইউক্রেনকে নতুন করে আট শ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণার পর ওই মন্তব্য করেন।

পুতিন একজন যুদ্ধাপরাধী কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাইডেন প্রথমে 'না' বলেছিলেন। পরক্ষণেই তিনি সাংবাদিকদের কাছে ফিরে আসেন। পুনরায় তাঁকে প্রশ্ন করা হলে বাইডেন বলেন: আমি মনে করি পুতিন একজন যুদ্ধাপরাধী। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বাইডেনের ওই জবাবের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্পর্কে বাইডেনের সাম্প্রতিক মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং ক্ষমার অযোগ্য। পেসকভ আরও বলেন এমন এক দেশের প্রেসিডেন্ট ওই মন্তব্য করলেন যে দেশ নিজেদের বোমা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিকভাবেই রাশিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে বিরত থাকে নি। তারা এখন অপমান ও অভিযোগ আরোপ করে রুশ প্রেসিডেন্টের চেহারায় কালিমা লেপন করতে চাচ্ছে। এই আচরণকে পেসকভ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ওয়াশিংটন মস্কোর বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লেগেছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে তারা এখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লক্ষ্য করে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও প্রচারণা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকার কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করেন পুতিনের বিরুদ্ধে 'যুদ্ধাপরাধী' শব্দের ব্যবহার থেকে মনে হয় রাশিয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটন আগের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। বাইডেনসহ মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে 'যুদ্ধাপরাধ' কিংবা 'যুদ্ধাপরাধী'র মতো শব্দের ব্যবহার সরাসরি অস্বীকার করেছে। তারা বরং বলেছিলো যুদ্ধাপরাধী বলার আগে তার তদন্ত হওয়া দরকার। কিন্তু এখন মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্টই বলছে ইউক্রেনে বেসামরিক লোকজন হত্যা করা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

এই ঘটনা থেকে মনে হচ্ছে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য হলো পুতিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তার ব্যক্তিত্বকে আঘাত করা। সেইসঙ্গে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তাকে একজন স্বৈরশাসক হিসেবে চিহ্নিত করা। তারপর ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।

পেসকভ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন: মার্কিন কর্মকর্তাদের হাত আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ার লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তে রঞ্জিত। জাতিসংঘের বিনা অনুমতিতে ওইসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারাই বরং যুদ্ধাপরাধ করেছে।#

পার্সটুডে/এনএম/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।