হরমুজ প্রণালিকে 'মার্কিন ভূখণ্ড' ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, কড়া জবাব ইরানের
https://parstoday.ir/bn/news/world-i162196-হরমুজ_প্রণালিকে_'মার্কিন_ভূখণ্ড'_ঘোষণার_হুমকি_ট্রাম্পের_কড়া_জবাব_ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে 'সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করার' পরপরই তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন।
(last modified 2026-08-15T15:12:51+00:00 )
আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৮:০৯ Asia/Dhaka
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প
    ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে 'সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করার' পরপরই তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন।

গত শুক্রবার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে সমর্থক ও পুলিশ সদস্যদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি হাসতে হাসতে এ কথা বলেন। তাঁর এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।

যা বলেছেন ট্রাম্প

ট্রাম্প বলেন, "ইরানকে খুব বাজেভাবে পরাজিত করা হচ্ছে। ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।" এরপর তিনি জুড়ে দেন, "এটা সত্য।"

অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, "অবরোধ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা না চাইলে কোনো জাহাজই যেতে পারবে না। এই অবরোধ থামানো যাবে না, এটা ইস্পাতের দেয়াল।" তিনি একে বিশ্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি "মহৎ সেবা" বলেও বর্ণনা করেন।

তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরে জানান, ট্রাম্প এই মন্তব্য মজা করেই করেছেন—অর্থাৎ প্রশাসনের ভেতর থেকেই এই ঘোষণাকে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে।

কাজেম গারিবাবাদি

ইরানের পাল্টা জবাব

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী (আইনি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক) কাজেম গারিবাবাদি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দেন। তিনি লেখেন, "হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে। ইরানের নির্দেশেই শুধু এ প্রণালি বন্ধ হবে বা খুলবে।"

তিনি আরও বলেন, "ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরাজয়ের পর তিনি শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। হরমুজ প্রণালি কোনো টুইটে, কোনো বিমানবাহী রণতরীতে, কোনো ডিক্রি জারি করে কিংবা কোনো নির্বাচনী বক্তব্যে দখল করা যাবে না। ইরান হুমকিতে ভীত নয়, শক্তি প্রদর্শনেও ভীত নয়।"

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে—যে জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালিতে অবাধ চলাচল থাকলেও এখন এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার একটি প্রধান বিতর্কিত বিষয়।

জুন মাসে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে সামরিক তৎপরতা বন্ধের লক্ষ্যে, যাতে ইরানের ওপর বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতের শর্ত ছিল। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং মাসের শেষে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়।

ইরান দাবি করে, প্রণালির একটি বড় অংশ তাদের ভূখণ্ডগত জলসীমার মধ্যেই পড়ে এবং তাই তা তাদেরই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই যুক্তিতে তেহরান জাহাজ চলাচলে ব্যাপক বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি অর্থনীতিকে দুর্বল করতে নিজস্ব নৌ অবরোধ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সম্প্রতি ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি পণ্যবাহী জাহাজে গুলিও চালিয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন জোগাতেই মূলত নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন ট্রাম্প—তাঁর প্রশাসনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণ এখন অনিশ্চিত অবস্থায় আছে। সমাবেশে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ফের 'বিজয়'-এর দাবি করেন, যদিও বাস্তবে যুদ্ধ এখনও চলছে এবং এর কোনো স্পষ্ট সমাপ্তি দেখা যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। জুলাই মাসের শেষদিকে পরিচালিত কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধী। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গোলাবারুদ মজুদে টান পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ানোর সক্ষমতা সীমিত হয়ে আসতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশের একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করা কিংবা তা থেকে টোল আদায় করা অবৈধ, কারণ এই আইন মূলত বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার সুরক্ষিত রাখে।

উল্লেখ্য, এবারই প্রথম নয়, এর আগেও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার মধ্যে কানাডা ও ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগের ঘটনাও রয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৫