‘অর্থনৈতিক আগ্রাসন দিবস’ ঘোষণা কোনো দেশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অভিযান
https://parstoday.ir/bn/news/world-i162476-অর্থনৈতিক_আগ্রাসন_দিবস’_ঘোষণা_কোনো_দেশের_বিরুদ্ধে_সবচেয়ে_শক্তিশালী_অর্থনৈতিক_অভিযান
পার্সটুডে: ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের পরিকল্পনাকে এমন একটি বুমেরাং হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত এর পরিকল্পনাকারীদের দিকেই ফিরে আসবে।
(last modified 2026-08-24T13:55:44+00:00 )
আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৭:২৮ Asia/Dhaka
  • ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক আগ্রাসন দিবস’ ঘোষণা
    ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক আগ্রাসন দিবস’ ঘোষণা

পার্সটুডে: ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের পরিকল্পনাকে এমন একটি বুমেরাং হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত এর পরিকল্পনাকারীদের দিকেই ফিরে আসবে।

কলিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “একটি হিমায়িত ও উদ্যোগহীন পররাষ্ট্রনীতি একটি হিমায়িত ও স্থবির অর্থনীতি তৈরি করে। একমাত্র যে জিনিসটি এখনো চলমান-তা হলো ইরানের বুমেরাং, যা আপনাদের দিকেই ফিরে আসছে।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ আরোপের প্রচেষ্টা শুধু তেহরানকে নত করতে ব্যর্থ হবে না, বরং এর বড় ধরনের অর্থনৈতিক মূল্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরও দিতে হবে।

ট্রাম্প ১৯ আগস্ট ২০২৬ ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক আগ্রাসন দিবস’ ঘোষণা করে দাবি করেন, এটি হবে কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত “সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অভিযান”। পরদিন বেসেন্ট মার্কিন মিত্রদের বিশ্বের ইতিহাসের “সবচেয়ে বড় সমন্বিত অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা” কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন।

কলিবফের মতে, এর প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে তেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। এর ফলে জ্বালানি ও পণ্যের দাম বাড়ার মাধ্যমে মার্কিন ভোক্তার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ইতিহাসও দেখায় যে সর্বোচ্চ চাপের নীতি কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এর আগে মার্কিন ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ' নীতির ধারাবাহিক ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে নতুন অর্থনৈতিক অভিযানও ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা জোরদারে আগ্রহ দেখায় নি। বেইজিংয়ের অবস্থান হলো, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ সংকটের সমাধান করতে পারে না; বরং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

কলিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো অর্থনৈতিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত 'বুমেরাং হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ফিরে আসতে পারে।'#

পার্সটুডে/এনএম/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন