ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লোকদেখানো: সিনেটর মরফি
-
• মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মরফি
পার্সটুডে- ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্কিন সরকারের ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাকে একটি লোকদেখানো ও অন্তঃসারশূন্য বাগাড়ম্বর বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কোনো যুদ্ধাভিযানের লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।
পার্সটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মরফি সোমবার রাতে এক্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে একটি বার্তায় লিখেছেন: "ডি-ডে" [যেদিন অভিযান শুরু হয়েছিল] একটি হতাশাজনক লোকদেখানো ব্যাপার। ইরান যুদ্ধে জিতছে এবং ট্রাম্প হারছেন; এবং আমেরিকানরা এর জন্য অনেক, অনেক চড়া মূল্য দিচ্ছে। আসুন আমরা খতিয়ে দেখি আমরা কোথায় আছি এবং কেন এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরেকটি বোকামির কাজ।
ক্রিস মরফি আরও বলেন: প্রথমত, আসুন আমরা মনে রাখি যে ট্রাম্পের কোনো যুদ্ধাভিযানের লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। [ইরানি] শাসনব্যবস্থা অক্ষত ও স্থিতিশীল। তাদের কাছে এখনও ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং পারমাণবিক কর্মসূচি রয়েছে। তারা এমনকি আমাদের উপহাস করে এবং তাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো পরিদর্শন করে।
মরফি জোর দিয়ে বলেন: আরও খারাপ ব্যাপার হলো, যুদ্ধের আগে ইরান [হরমুজ] প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করত না। এখন তাই হচ্ছে। পারস্য উপসাগর দিয়ে যাতায়াত সীমাবদ্ধ এবং কোনো জাহাজ পার হতে হলে আমেরিকান করদাতাদের টাকায় এক বিলিয়ন ডলারের একটি এসকর্ট মিশনের সাহায্য নিতে হচ্ছে। এটা একটা বিপর্যয়। গ্যাসের দাম এখনও চড়া।
তিনি স্বীকার করেছেন: আজ ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি “অর্থনৈতিক ডি-ডে” ঘোষণা করছেন কারণ ইরান তাকে একটি কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে; এবং তিনি সব ধরনের কঠোর শব্দ ব্যবহার করছেন, কিন্তু তা অন্তঃসারশূন্য বাগাড়ম্বর। কেন? কারণ, প্রথমত, আমরা ইরানের প্রায় সবকিছুর উপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি। আর কিছুই বাকি নেই। “ডি-ডে” একটি বড়াই মাত্র।
ডি-ডে হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি সামরিক পরিভাষা, যা কোনো যুদ্ধে একটি বড় ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান শুরুর সময়কে বোঝায়।
ক্রিস মরফি আরও বলেন: “দ্বিতীয়ত, চীন যতক্ষণ ইরানের তেল কিনতে থাকবে, ততক্ষণ তারা অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে; এবং তাদের তেল কেনা বন্ধ করার কোনো লক্ষণ নেই। আরও খারাপ ব্যাপার হলো, ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের এই মোহ চীনকে নতুন সুবিধা দিয়েছে।” তিনি দাবি করেন: “হয়তো চীন ইরান থেকে তেল কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু কেবল যদি আমরা তাদের আরও এআই মাইক্রোচিপ দিই। অথবা তাইওয়ানকে বিক্রি করে দিই। খুব সম্ভবত, আমরা চীনের ওপর কোনো সত্যিকারের চাপ সৃষ্টি করব না, কারণ আমরা জানি যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যাবশ্যকীয় খনিজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে এর প্রতিশোধ নেবে।”#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন