বাহরাইনে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি চালু করতে যাচ্ছে ব্রিটেন: রিপোর্ট
বাহরাইনে বিশাল সামরিক ঘাঁটি চালু করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে রণতরী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক্সপ্রেস পত্রিকা জানিয়েছে, আগামী মাসে এই ঘাঁটির উদ্বোধন করা হবে। এটি চালু হলে তা হবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ৪০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ব্রিটিশ স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি।
বাহরাইনে বিশাল সামরিক ঘাঁটি চালু করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে বড় আকারের রণতরী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক্সপ্রেস পত্রিকা জানিয়েছে, আগামী মাসে এই ঘাঁটির উদ্বোধন করা হবে। এটি চালু হলে তা হবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ৪০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ব্রিটিশ স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি।
বাহরাইনের সালমান বন্দরে ২০১৪ সালে এই নৌ ঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল ব্রিটেন। ঘাঁটিটিতে ৬০০ সেনা মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া, এ ঘাঁটির নিরাপত্তা রক্ষা করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস ট্যাংকারের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে রণতরী মোতায়েন করবে সাবেক উপনিবেশবাদী এই দেশ।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, বাহরাইনের এ নৌ ঘাঁটিতে সমরাস্ত্র মজুদ করবে লন্ডন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো দেশ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে চাইলে ওই সমরাস্ত্র দিয়ে সেদেশের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
তবে বাহরাইনে এই ব্রিটিশ নৌঁ ঘাটির আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, এই প্রকল্প নিয়ে বাহরাইনের পার্লামেন্টে আলোচনা করা হয়নি; অর্থাৎ দেশটির জনগণকে পাশ কাটিয়ে স্থায়ী সেনা ঘাঁটি নির্মাণ করেছে ব্রিটেন।
বাহরাইনের বিরোধী দলগুলি বলেছে, এই ঘাঁটি চালু হলে সরকার তাদের ওপর আরো কঠোর হাতে দমন অভিযান চালাতে পারবে। কারণ, ব্রিটিশ ঘাঁটি নির্মিত হলে তাতে প্রকারান্তরে আলে খলিফা সরকারের স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি পাবে। বাহরাইনের রাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া গণ আন্দোলন এখনো চলছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গত পাঁচ বছরের সরকারি দমন অভিযানে শত শত মানুষ হতাহত হয়েছে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৩০