নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা: ৩ বাংলাদেশিসহ নিহত ৪৯
-
আল নূর মসজিদ
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীদের গুলিতে তিন বাংলাদেশিসহ ৪৯ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়েছেন। ‘নজিরবিহীন’ এ সন্ত্রাসী হামলাটিকে ‘পরিকল্পিত’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্ন।
নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানিয়েছে, আজ (শুক্রবার) স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা চালায় এক বন্দুকধারী। পরে কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে হামলা চালানো হয়। তবে দ্বিতীয় মসজিদে হামলাকারী একই ব্যক্তি কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। হামলায় আল নূর মসজিদে ৪১ জন এবং লিনউড এলাকার অন্য মসজিদে হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী আরডের্ন বলেন, “এটা নিউজিল্যান্ডের অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি। এখানে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা পরিষ্কারভাবেই অস্বাভাবিক এবং অপ্রত্যাশিত নৃশংসতা।”
হামলায় জড়িত সন্দেহে আটক এক ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী ‘একজন চরম ডানপন্থি নৃশংস সন্ত্রাসী’।
গুলি চালানোর দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার
আল নূর মসজিদে হামলাকারী তার হেলমেটে বসানো ক্যামেরায় গুলি চালানোর পুরো দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছেন। প্রায় ১৭ মিনিটের ওই লাইভে অটোমেটিক রাইফেলধারী ওই ব্যক্তি নিজের নাম বলেছেন ‘ব্রেন্টন ট্যারেন্ট’। ২৮ বছর বয়সের শ্বেতাঙ্গ ওই হামলাকারীর জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়।
৩ বাংলাদেশি নিহত
নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজন হলেন স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ ও তাঁর স্ত্রী। নিহত আরেকজন হলেন গৃহবধূ হোসনে আরা ফরিদ।
নিহত ড. সামাদ বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন।
শফিকুর রহমান ভূঁইয়া আরো জানান, মসজিদে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এ ছাড়া গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে এক বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
বেঁচে গেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা
আল নূর মসজিদে বন্দুক হামলার সময় নিউজিল্যান্ড সফরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড় জুমার নামাজ আদায় করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলের কোচ।
নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের খবরে বলা হয়েছে, গোলাগুলি শুরুর পরপরই আল নূর মসজিদে পৌঁছেছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। তারা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। শনিবার ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট খেলতে মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। হামলার পর ওই ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।

আটক ৪
এদিকে, দুই মসজিদে হামলায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী বলে জানান পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।
সব মসজিদ বন্ধের নোটিশ
দুই মসজিদে হামলার পর ক্রাইস্টচার্চ কর্তৃপক্ষ নগরীর সব মসজিদ পরবর্তী নোটিস না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নগরীর সব স্কুলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৫
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন