প্রসঙ্গ আফগানিস্তান:
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বশেষ দলের আফগানিস্তান ত্যাগ: একটি পর্যালোচনা
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বশেষ দল গতকাল বিকেলে আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেছে। তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর গেল দুই সপ্তায় অন্তত পণর হাজার ব্রিটিশ সেনা কাবুল বিমানবন্দরের মাধ্যমে দেশে ফিরে গেছে।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মনে করেন দখলদারিত্বের বিশ বছর পর আফগানিস্তান ভূখণ্ড ত্যাগ করার ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে বড় পশ্চাদপসরণ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও বলেছেন, সেনাবাহিনীর প্রত্যাবর্তনের ঘটনা খুবই কষ্টকর, তবে যথাসময়ে আমরা আমাদের সেনাদের ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। মজার ব্যাপার হলো আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ সেনাদের পলায়নের ঘটনায় জনসন গর্ববোধ করেছেন। অথচ আফগানিস্তানে বিদেশি সেনা নিহতের পরিসংখ্যানের দিক থেকে বৃটেনের অবস্থান দ্বিতীয়। সেনা নিহতের তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। অন্তত ৪৫৫ ব্রিটিশ সেনা নিহত হয়েছে আফগানিস্তানে। মার্কিন এবং ন্যাটো সেনাদের পাশাপাশি ব্রিটিশ সেনারা আফগানিস্তানের নিরীহ জনগণের ওপর ব্যাপক অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। একইসঙ্গে প্রকাশিত বহু প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ব্রিটিশ সেনারা মাদক চোরাচালানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এটা প্রমাণ করে পশ্চিমা সেনারা মাদক উৎপাদনে বাধা তো দেয়ই নি উল্টো নিজেরাই মাদক উৎপাদনের সুযোগকে যৌথভাবে মুনাফা অর্জনে কাজে লাগিয়েছে। কারণ ন্যাটোসহ পশ্চিমা সেনাদের হাতে সেই শক্তি ছিল এবং ওই শক্তি ব্যবহার করে পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে তারা মাদক পাচার করেছে।
জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হবার পর প্রথমে আফগানিস্তানে তাদের সেনা থাকার ঘোষণা দিয়ে পরবর্তীকালে বিপরীত অবস্থান নেন। তিনি ঘোষণা করেন মে থেকে আগস্টের ৩১ তারিখের মধ্যে মার্কিন ও ন্যাটো সেনা পুরাপুরি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। গেল ৮ জুলাইতে বাইডেন পুনরায় আফগানিস্তানের চোরাবালি থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাদের সেনা সরিয়ে নেয়ার আদেশ দেন। যদিও বৃটেনসহ ইউরোপীয় মিত্ররাও এর বিরোধী ছিল। তারা ভেবেছিল এরফলে তালেবানরা পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে এবং সেটাই হয়েছে শেষ পর্যন্ত। বরিস জনসনসহ ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বাইডেনের এই ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে নেয়ার ঘটনাকে ভয়াবহ, অপ্রয়োজনীয় এবং দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন: 'আমাদের পক্ষে এ কাজ করার দরকারই ছিল না'। কাবুল বিমানবন্দরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৩ মার্কিন সেনা ও ৩ ব্রিটিশ নাগরিক নিহত হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং তাড়াহুড়ো করে তারা তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেয়। অদূর ভবিষ্যতে আরও কী ঘটতে যাচ্ছে সেদিকেই এখন বিশেষজ্ঞদের কৌতূহলী দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।#
পার্সটুডে/এনএম/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।