শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান
পাঞ্জশির উপত্যকা সংঘাতে ইরানের উদ্বেগ: সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তেহরান
‘বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে আফগানিস্তান আজ ক্লান্ত। তাই দেশটির সব পক্ষের উচিত সহিংসতা ও ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধ বন্ধ করা’।
এ কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের সংঘাতপীড়িত পাঞ্জশির উপত্যকার ঘটনাবলীতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সব পক্ষের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং দেশটির জনগণের দুঃখদুর্দশা সর্বনিম্ন পর্যায়ে কমিয়ে আনার জন্য তেহরান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের যে কোনো হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বহু ধর্ম, জাতি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আফগান জনগোষ্ঠী তাদের সরকার ও ভাগ্য নির্ধারণের যোগ্যতা রাখে।
আফগানিস্তানের বর্তমান স্পর্শকাতর ও ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে যদি অভ্যন্তরীণ সংঘাত চলতে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে দেশটি অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হবে। ইরান বহুবার বলেছে, আফগানিস্তানে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী সব দেশ সহযোগিতা করবে বলে তেহরান আশা করে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি নতুন প্রেসিডেন্ট ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে আফগানিস্তানকে অভিন্ন ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সেদেশের জনগণের দুর্দশার কারণে গভীর দুঃখ ও আফসোস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘গত ২০ বছরে আফগানিস্তানের উন্নতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি পদক্ষেপও নেয়নি। আফগান জনগণ গত ২০ বছরে অবকাঠামো ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যদি পিছিয়েও না থাকে অন্তত সামনের দিকে এগোতে পারেনি’। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তার দেশ সবসময় আফগানিস্তানের মজলুম জনগণের পাশে রয়েছে এবং এ অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের ওপর নির্ভর করছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তেহরান এমনভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে সব জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও কোনো হুমকি সৃষ্টি না হয়। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক আব্দুল বারি আতাওয়ান বলেছেন, ‘মার্কিন সরকার ইরাকের মতো আফগানিস্তানেও শান্তি, কল্যাণ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা ছিল ফাকা বুলি ও মিথ্যাচার। মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পর বর্তমানে বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ আফগানিস্তানে ফের ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধ দেশটিকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে’।
প্রকৃতপক্ষে, আফগানিস্তানে এখন যা ঘটছে তা মার্কিন দখলদারিত্ব ও হস্তক্ষেপের ফল। গত ২০ বছর আফগানিস্তানে দখলদারিত্ব বজায় রেখে তারা যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি। অথচ শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছিল। কিন্তু গত দুই দশকে কিছুই অর্জন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তারা আফগানিস্তান থেকে পাত্তাড়ি গুটাতে বাধ্য হয়।
যাইহোক বর্তমানে আফগানিস্তানে শান্তি বজায় থাকা প্রতিবেশী সব দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ওই দেশটিতে অব্যাহত সহিংসতা সবার জন্যই নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ কারণে ওই দেশটির উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইরান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪