বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে বেশি: গয়েশ্বর
বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে বেশি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল আলমের মুক্তির দাবিতে আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, আজকে মানুষ নানা সমস্যায়। করোনার কারণে চাকরিহারা। ভূমধ্যসাগরে গিয়ে মারা যাচ্ছে। আজকে যদি দেশে কর্মের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে মানুষের এত দুর্দশা হতো না।
গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘আজকে প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য বেশি। এই অবস্থার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন চলছে। আমরা কেউ মুক্ত না। আমরা আমাদের দেশের মানুষকে মুক্ত করতে চাচ্ছি।’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ভারত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বৃহত্তম দেশ, কিন্তু বাংলাদেশে গণতন্ত্র থাকুক তারা সেটা চায় না। এই কয়েক দিন পরপর দেখা যায় বিজেপির নেতা আসছেন দেশে। আর ভারতের হাইকমিশনার তো প্রায়ই আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বসেন। মানে একজন হাইকমিশনারের কাজ হচ্ছে সরকারের সঙ্গে বৈঠক করা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁরা লাঞ্চ ও ডিনার করেন, কিন্তু অন্য দলের সঙ্গে তাঁদের কথা বলতেও দেখা যায় না। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তো তাঁরা সৌজন্য সাক্ষাৎও করেন না।
খালেদা জিয়া অনেক দিন ধরে অসুস্থ থাকলেও প্রতিবেশী দেশের হাইকমিশনার এসে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেননি বলে অভিযোগ করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
গয়েশ্বর বলেন, রাজনীতিতে দুটি ঠিকানা, হয় জেলখানা, না হয় রাজপথ। আমাদের সামনে একটাই পথ আছে। হয় জেলখানায় থাকব, না হলে রাজপথে থাকব। আর আমরা যদি কোনোটাতেই না থাকি তাহলে কাপুরুষের মতো মরতে হবে। যে মৃত্যু ইতিহাসের পাতায় কোনো সম্মান পাবে না।
তিনি বলেন, যারা রাজনীতি করে তারা জেলখানায় গেলে তাদের সম্মান নষ্ট হয় না। কেউ কেউ বলেন, আমরা ভালো থাকতে চাই। ভালো যদি থাকতে চাইতাম তাহলে প্রতিদিন মিটিং-মিছিল করতাম না। এই দেশে ভালো থাকার উপায় নেই। একটা ফ্যাসিবাদী সরকার অস্ত্রের জোরে মসনদে বসে আছে। তাদের কাছে ভালো কিছু আশা করা যায় না।
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূইয়া প্রমুখ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।