রোহিঙ্গারা বিপদে পড়ে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের যেন কষ্ট না হয়: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45871-রোহিঙ্গারা_বিপদে_পড়ে_আশ্রয়_নিয়েছে_তাদের_যেন_কষ্ট_না_হয়_শেখ_হাসিনা
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সাধ্যমতো সব রকম ব্যবস্থা নিচ্ছি। দেশবাসীকে বলব, এরা বিপদে পড়ে আমাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের যেন কষ্ট না হয়। স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক দল তারা সবাই যেন তাদের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়।’
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭ ২০:৪৬ Asia/Dhaka
  • জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা
    জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সাধ্যমতো সব রকম ব্যবস্থা নিচ্ছি। দেশবাসীকে বলব, এরা বিপদে পড়ে আমাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের যেন কষ্ট না হয়। স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক দল তারা সবাই যেন তাদের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়।’

বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদের সপ্তদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে এখনো আগুন দেওয়া থামেনি। সে দেশের তিন লাখের বেশি নাগরিক বাংলাদেশে চলে এসেছে। এখনো আসছে। এটা বাংলাদেশের জন্য বিরাট একটা বোঝা। কিন্তু মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমারের অধিবাসীদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছে। কারণ বিবেকে লেগেছে। কিন্তু কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীকে দেশে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের যে দুর্দশা, এই দুর্দশা দেখে আমাদের যতই কষ্ট হোক না কেন, যদি প্রয়োজন হয়, আমাদের খাবার ভাগ করে খাব। সাধারণ মানুষ আমাদের কাছে এসেছে আশ্রয়ের জন্য, আমরা মিয়ানমারের মতো নাফ নদীতে ফেলতে পারি না। বঙ্গোপসাগরেও ফেলতে পারি না। তাদের আশ্রয় দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, মিয়ানমারের বোধদয় হবে। তারা নিজের দেশের নাগরিকের ওপর নির্যাতন বন্ধ করবে, তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে। যারা দোষী, তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরীহ মানুষকে নির্যাতন না করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা

বিভিন্ন দেশ ও বিদেশি সংস্থা ত্রাণসহায়তা দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু তারা আমাদের দেশে আছে, তাই মূল দায়িত্ব আমাদের। বিদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য যেসব ত্রাণ আসছে, সেসব সমন্বয়ের জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর স্থানীয়ভাবে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়েছে। যেখানে-সেখানে না দিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে ত্রাণ দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রাণে কী কী আছে তা স্ক্যান করতে এবং ত্রাণের গাড়ি ফেরত আসার সময় পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জাতিসংঘের অধিবেশনে তুলে ধরবেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্ব জেগে উঠেছে। মিয়ানমারকে তাদের নাগরিক ফিরিয়ে নেওয়া ও নির্যাতন বন্ধ করার অনুরোধ করা হচ্ছে। তাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূঁয়সী প্রশংসা করা হচ্ছে।

খোলা আকাশের নিচে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসান চরে একটি অস্থায়ী আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আামি তাদের থাকার জন্য ২০০০ একর জমি দিয়েছি। বাঁশের সঙ্গে টিন এবং পলিথিন টাঙিয়ে থাকছে তারা। কিন্তু এভাবে কতো দিন। কিছুদিন পরই  স্যানিটেশন  সমস্যা তৈরি হবে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভাসান চরে তাদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থান তৈরি করতে। এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নেভিকে।

কক্সবাজারে শরণার্থী পরিস্থিতি দেখে আসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখেছি কী করুণ অবস্থা। সবচেয়ে মানবিক বিষয় হচ্ছে শিশু। কয়েকটি শিশুর সঙ্গে কথা বললাম চোখে পানি রাখা যায় না। একটা বাচ্চার সামনে তার বাবা, মা, ভাই, বোনকে মেরে ফেলা হয়েছে। দুটি মেয়ে এসেছে তাদের বাবা-মা কেউ নেই। একটি ছোট মেয়ে তার ছোট ভাইকে নিয়ে অন্যদের সঙ্গে এসেছিল, কিন্তু পথে তার ভাই হারিয়ে গেছে। এসব সহ্য করা সম্ভব নয়।‘

দেশে খাদ্য সংকট হতে পারে এমন তথ্য নাকচ করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের খাদ্য নিয়ে কাউকে খেলতে দেওয়া হবে না। আর কেউ খাদ্যের জন্য কষ্ট পাবে না।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৫