সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে খালেদা জিয়ার ৬ শর্ত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i52417-সংসদ_নির্বাচনে_অংশগ্রহণের_বিষয়ে_খালেদা_জিয়ার_৬_শর্ত
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণসহ ছয়টি শর্ত দিয়েছেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৮ ১৩:১৫ Asia/Dhaka
  • সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে খালেদা জিয়ার ৬ শর্ত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণসহ ছয়টি শর্ত দিয়েছেন।

আজ (শনিবার) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় তিনি শর্তগুলো দেন। তাঁর শর্তগুলো হচ্ছে:

* ভোট হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে

* জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে

* ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে

* নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে

* ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোবাইল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে

* যন্ত্রে ভোটের জন্য ইভিএম/ডিভিএম ব্যবহার করা যাবে না

সভায় ছয় শর্ত দেয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া নির্বাহী কমিটির সদস্যদের কাছে জানতে চান তারা এর সঙ্গে একমত কি না। এ সময় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উচ্চস্বরে বলেন- একমত।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় খালেদা জিয়া

এসময় তিনি বলেন, ‘সংসদ বহল রেখে নির্বাচন করতে চায়। এটা কোনো দেশে নেই। নিজস্ব দলীয় লোকদের প্রশাসনে বসানো হচ্ছে। তারা মনে করে নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে সহযোগিতা করবে। কিন্তু তারা যদি একটু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তাহলে কারো কোনো কথা শুনতে হবে না। কারণ তারা এদেশের নাগরিক। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে।

'দুঃশাসন জেঁকে বসেছে'

তিনি বলেন, ‘আমার এক ছেলে (আরাফাত রহমান কোকো) মারা গেছে। আরেক ছেলে (তারেক রহমান) অসুস্থ। শত ইচ্ছা করলেও তাদের আমি কাছে রাখতে পারছি না। মা হয়ে এর চেয়ে কষ্টের আর কি আছে? সন্তানদের মতই আমার দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন এই সরকারের জুলুম-নির্যাতনের শিকার। সারাদেশের মানুষেরই ওপর দুঃশাসন, অত্যাচার, খুন, গুম, জেল-জুলুম জেঁকে বসেছে।‘

'এত আগে প্রচারের কারণ কী?'

আওয়ামী লীগের আগাম নির্বাচনী প্রচারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে এত আগে প্রচারের কারণ কী? তিনি বলেন, ‘নৌকা এমন ডোবা ডুবছে, যে তোলার জন্য এত আগে ভোট চাইতে হচ্ছে? হাত তুলে ওয়াদা করাতে হচ্ছে।’

'একবার ক্ষমা করেছি, বারবার না'

সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রয়োজনে এখন প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।

তিনি দলের নেতাদের বলেন, 'একবার ক্ষমা করেছি। কিন্তু ক্ষমা বারবার করা যায় না। তাই দল ভাঙার যত চেষ্টাই হোক কেউ ফাঁদে পা দেবেন না। যারা দলের প্রতি অনুগত থাকবেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে। যারা থাকবেন না তাদের আর ক্ষমা করা হবে না। লোভ-লালসা, ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থাকবেন। এক-এগারোর সরকার আমাদের ভাঙতে পারেনি। এরাও পারবে না। এক-এগারোর ফর্মুলা অনুযায়ী সরকার বিএনপিকে মাইনাস করে আবারও একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চায়। এটা তাদের করতে দেয়া হবে না।'

'আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না'

তিনি বলেন,  ‘আমা‌কে ভয় দে‌খি‌য়ে কোনো লাভ হ‌বে না, আমি দে‌শের মানু‌ষের স‌ঙ্গে আছি। আসুন সবাই মি‌লে এ দেশটা‌কে আমরা রক্ষা ক‌রি।’

'বিএনপির সঙ্গে জনগণ, পুলিশ, সশ্বস্ত্র বাহিনী আছে'

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পুলিশও চায় নিরপেক্ষ গণতন্ত্র থাকুক। কিন্তু তাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া। নির্দেশ পালন না করলে পরিণতি ভালো হবে না। বিএনপির সঙ্গে জনগণ, পুলিশ, সশ্বস্ত্র বাহিনী আছে। যারা বাইরে আছে তারাও আমাদের সঙ্গে আছে। তাই বিএনপির কোনো ভয় নেই। ভয় আছে আওয়ামী লীগ।

বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

'স্বাধীনতার পর দেশ এখন বড় সংকটে'

নির্বাহী কমিটির সভায় স্বাগত বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর দেশ এখন বড় সংকটে রয়েছে। মানুষের এখন মৌলিক অধিকার নেই। সরকারের হাত প্রতিবাদী মানুষের হাতের রক্তে রঞ্জিত। জুলুমবাজ এই সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’

আজ বেলা ১১টা ৫ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লা মেরিডিয়েন হোটেলে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানানদলীয় নেতারা। তারপর তাঁকে সভাকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। মঞ্চে তাঁর পাশে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা রয়েছেন। পরে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে নির্বাহী কমিটির সভা শুরু হয়। এরপর শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। শোক প্রস্তাব উপস্থাপন শেষে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। এর পরই লন্ডনে থাকা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করা হয়।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩