হাইকোর্টের রায় আমি লঙ্ঘন করতে পারি না: কোটা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i60015-হাইকোর্টের_রায়_আমি_লঙ্ঘন_করতে_পারি_না_কোটা_প্রসঙ্গে_শেখ_হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা হাইকোর্টের রায়েই রক্ষিত রয়েছে। হাইকোর্টের রায় তো আমি লঙ্ঘন করতে পারি না। এটা করলে তো আদালত অবমাননায় পড়ে যাব। এটা কেউ করতে পারবে না।
(last modified 2026-06-27T06:25:53+00:00 )
জুলাই ১২, ২০১৮ ২০:৩৯ Asia/Dhaka
  • জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা
    জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা হাইকোর্টের রায়েই রক্ষিত রয়েছে। হাইকোর্টের রায় তো আমি লঙ্ঘন করতে পারি না। এটা করলে তো আদালত অবমাননায় পড়ে যাব। এটা কেউ করতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা সংস্কার আমরা করব। আমি তো বলেছিলাম, টোটাল বাদ দিতে। হাইকোর্টের রায় আছে। হাইকোর্টের রায় অবমাননা করে তখন তো আমি কনটেম্পট অব কোর্টে পড়ে যাব। এটা তো কেউ করতে পারবে না। কিন্তু আমরা তো কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটা কমিটিও করে দিয়েছি। তারা সেটা দেখছেন। তাহলে এদের অসুবিধাটা কোথায়? আমার সেখানে প্রশ্ন।’

সংসদ নেতা বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী গতকাল বলেছেন কোটার ব্যাপারে—মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোটা, তার ব্যাপারে হাইকোর্টের রায় রয়ে গেছে। যেখানে হাইকোর্টের রায় আছে যে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা ওইভাবে সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে ওই কোটার বিষয়ে আমরা কীভাবে কোর্টের ওই রায় ভায়োলেট করব। সেটা তো আমরা করতে পারছি না। কিন্তু আমি যেটা করে দিয়েছি, কোটা যেটাই থাক, কোটা পূরণে যেটা খালি থাকবে, তা মেধা থেকে পূরণ হবে। গত কয়েক বছর থেকেই এই প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। তা হচ্ছে।’ 

আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন ছেলেপুলে আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া, গাড়িতে আগুন দিয়ে পোড়ানো, বাড়ি ভাঙচুর করা, বেডরুম পর্যন্ত পৌঁছে ভাঙচুর ও লুটপাট করা, স্টিলের আলমারি ভেঙে গহনাগাটি, টাকা-পয়সা সবকিছু লুটপাট করা হয়েছে। ভিসির পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুকিয়ে থেকে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এটা কি কোনো শিক্ষার্থীর কাজ? এটা কি কোনো শিক্ষার্থী করতে পারে? কথায় কথা বলে, ক্লাস করবে না। ক্লাসে তালা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? আমরা সেশনজট দূর করেছি। তাদের কারণে এখন আবার সেই সেশনজট।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৫ টাকা সিটভাড়া আর ৩৮ টাকা খাবার। কোথায় আছে পৃথিবীর? নতুন নতুন হল বানিয়েছি। ১৫ টাকা সিটভাড়া আর ৩৮ টাকায় খাবার খেয়ে তারা লাফালাফি করে। তাহলে সিটভাড়া আর খাবারে বাজারদর যা রয়েছে, সেগুলো দিতে হবে তাদের। সেটা তারা দিক।’

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রচলিত ব্যবস্থায় ৫৬ শতাংশ আসনে কোটায় নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই কোটা ব্যবস্থা সংস্কারে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। তবে এপ্রিল মাসে তাদের আন্দোলন তীব্রতর হলে গত ১২ এপ্রিল সংসদে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, পুরোপুরি বাতিল নয়, কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন তীব্র করলে গত ২৭ জুন জাতীয় সংসদে নতুন কিছু বক্তব্য দেন যা আন্দোলনকারীদের হতাশ করে। সংসদে বিরোধী নেতা রওশন এরশাদ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবি করলে তা উড়িয়ে দেননি প্রধানমন্ত্রী। উপরন্তু তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন তিনি।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩