স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন মাশরাফি
-
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বিন মুর্তজা
দীর্ঘ ছয় বছর ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেয়া মাশরাফি বিন মুর্তজা স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আগামীকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচ খেলবেন তিনি।
আজ (বৃহস্পতিবার) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার প্রতি দীর্ঘদিন আস্থা রাখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমার অধীনে যারা ক্রিকেট খেলেছে তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তারা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। এছাড়াও ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছেন আমি যাদের অধীনে ছিলাম তাদের সবাইকেও ধন্যবাদ। সব শেষে অবশ্যই সমর্থকদের অনেক ধন্যবাদ।‘
জিম্বাবুয়ে সিরিজ শুরুর আগে বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন এই সিরিজ শেষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক ঘোষণা করা হবে। তবে কি বোর্ডের সিদ্ধান্তেই অধিনায়কত্ব ছাড়লেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘না! আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।‘
অবসর নিয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘একটা মানুষকে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অন্তত কিছুটা সময় দেয়া উচিত। ১৫ বছর ধরে এটা আমার জীবনের অংশ। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ। আমার যত অর্জন বা জীবনে যা কিছু করেছি, সব এ খেলা দিয়ে। আমার জীবনের অন্যতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটা। ফলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে আমার সময় দরকার হতো।’
এদিকে অধিনায়কত্ব ছাড়লেও এখনই বাংলাদেশ দলের থেকে অবসর নেয়ার কথা ভাবছেন না তিনি। এখনো দেশের হয়ে খেলে যেতে চান মাশরাফি।
বাংলাদেশ দলের অন্যতম সফল এ অধিনায়ক তার উত্তরসূরি হিসেবে কারো নাম প্রস্তাব করেননি। এ প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেছেন, 'কারো নাম বলা তো কঠিন। এটা অবশ্যই বোর্ডের সিদ্ধান্ত যে কে হবে। সিনিয়র যারা আছে, সাকিব তো বাইরে যারা আছে, সে প্রক্রিয়াটা কি আমি জানি না।'
মাশরাফি অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন, সাকিব নিষেধাজ্ঞায় এমন অবস্থায় দলের তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মধ্যে থেকে কাউকে অধিনায়ক হিসেবে বেঁছে নেয়া উচিত বলে মনে করেন মাশরাফি।
২০১৫ সালের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ঠিক আগে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি মাশরাফি এবং বাংলাদেশ দল। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ও বাংলাদেশ করেছিল মাশরাফির নেতৃত্বেই।
সময়টা সেসময় মাশরাফির নেতৃত্বে দুর্দান্ত কেটে বাংলাদেশের। তবে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর মাশরাফির বাংলাদেশ দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে আর সেই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে তার অধিনায়কত্ব নিয়েও।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ ৮ মাস পর রঙিন পোষাকে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চড়িয়ে মাঠে নেমেছেন মাশরাফি। ২০১৪ সালে যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষের সিরিজ দিয়ে নতুন করে অধিনায়কত্বের মালা পরেছিলেন মাশরাফি। ছয় বছর পর ২০২০ সালে ঘরের মাঠে সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষের সিরিজ দিয়েই বিদায় জানালেন অধিনায়কত্বকে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।