আজ রাতেই নিজামীর ফাঁসি-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শেষ সাক্ষাৎ করলেন স্বজনরা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i8965-আজ_রাতেই_নিজামীর_ফাঁসি_স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী_শেষ_সাক্ষাৎ_করলেন_স্বজনরা
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি আজ রাতেই কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ১০, ২০১৬ ১৭:১০ Asia/Dhaka
  • কারাগার থেকে বের হওয়ার পর নিজামীর স্বজনরা
    কারাগার থেকে বের হওয়ার পর নিজামীর স্বজনরা

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি আজ রাতেই কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সোমবার রাতে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, মতিউর রহমান নিজামী প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করেননি, ক্ষমা না চাওয়ায় নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে নির্বাহী আদেশ কারা কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে।

এর আগে, সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকরের নির্বাহী আদেশ নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির। তিনি কারা অভ্যন্তরে যাওয়ার পরপরই কারাগারের ভেতরে-বাইরে তৎপরতা বেড়ে যায়। ফটকের সামনে র‌্যাবের একটি দল বেষ্টনি তৈরি করে, তার সামনে পুলিশ সদস্যরা আরেকটি বেষ্টনি তৈরি করে। সাড়ে ৭টার দিকে কারাগারের সামনের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এরপর মানুষের চলাচলও সীমিত হয়ে যায়।

এর আগে বিকেলে কারা কর্তৃপক্ষ ফোন করে নিজামীর পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে শেষ বারের মতো দেখা করতে বলে। কারা কর্তৃপক্ষ ডাকার পর নিজামীর স্বজনেরা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর রাজধানীর বনানীর জে ব্লকের ১৮ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাড়ি 'মিশন নাহার' থেকে তিনটি গাড়িতে রওনা হন। রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা কারা ফটকের সামনে গিয়ে পৌঁছান। সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটে নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী, বড় ছেলে ড. খালিদ, ছোট ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, মেয়ে খাদিজা মহসীনা, বড় ছেলের স্ত্রী, দুই নাতি, নিজামীর চাচাতো ভাই, তার মেয়েসহ ২৬ সদস্যের একটি দল কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রায় দেড়ঘণ্টা সাক্ষাৎ শেষে রাত ৯টা ২৩ মিনিটে তারা তিনটি গাড়িতে করে ফিরে যান।

স্বজনদের শক্ত হতে বললেন নিজামী

সাক্ষাৎ শেষে নিজামীর দুই ভাতিজির নাম শানু আক্তার ও লুৎফা বেগম জানান, তাঁদের চাচা (নিজামী) ফাঁসি হওয়া নিয়ে মোটেই বিচলিত নন। বরং পরিবারের স্বজনদের শক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। স্বজনদের জন্য তিনি দোয়া করেছেন। তাঁর জন্যও দোয়া করতে বলেছেন।

কারাগারে ঢুকে কী অবস্থায় নিজামীকে দেখলেন, জানতে চাইলে তারা বলেন, চাচা নামাজ পড়ছিলেন। আমরা যাওয়ার পর নামাজ শেষ করে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাচ্চাদের আদর করেছেন।

গত ৫ মে আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ ও বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন জামায়াত নেতা। পরে আপিলের রায়েও তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়িসহ দুটি গ্রামে প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষকে হত্যা ও প্রায় ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ, ধুলাউড়ি গ্রামে ৫২ জনকে হত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ও সুপেরিয়র রেসপনসিবিলিটি।

আশরাফুর রহমান/১০