বাংলাদেশে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও ঢিলেঢালা ভাব: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার আরোপিত সাত দিনের লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে আজ মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীতে দেখা গেছে অনেকটাই ঢিলেঢালা ভাব। রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও দেখা গেছে উদাসীনতা।
গতকালের তুলনায় আজ রাস্তায় মানুষের চলাচল বেশি দেখা গেছে। রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, কাকরাইল, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, মহাখালী, গুলশান এসব এলাকায় প্রাইভেটকার ও সিএনজিচালিত অটো এবং প্রচুর রিকশা চলাচল করেছে। অনেক জায়গায় আবার যানজটও দেখা গেছে।
তবে রাজধানীর রাস্তায় বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী সাধারন যাত্রীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে সি এন জি চালিত অটো রিকশায় ঠাসাঠাসি করে দুই-তিন গুণ ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করেছেন। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি অনেকটাই উপেক্ষিত থেকেছে।
এদিকে প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে বাসা থেকে বের হতে নিরুৎসাহিত করছে প্রশাসন। মাস্ক ছাড়া বের হলে জরিমানা করছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। রাজধানীতে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মামুনুর রশিদ বলেছেন, ‘জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন বের না হয় সে বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে মাস্ক ছাড়া প্রাইভেট গাড়ি চালানোর কারণে সকাল থেকে কয়েক জনকে জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে, মার্কেট খুলে দেওয়ার দাবিতে আজকেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। মিরপুর ১ নম্বর মোড়ে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ব্যবসায়ীরা।
মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় কো-অপারেটিভ মার্কেটের ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, সরকার বিধিনিষেধ দিলেও অফিস-আদালত, বইমেলা, শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই খোলা রেখেছে। তাঁরাও তাঁদের দোকান সীমিত আকারে খুলতে চান। এই দাবি নিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন ।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায়, বগুড়া শহরে এবং বরিশাল বিভাগীয় নগরীতেও এরকম বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দোকান কর্মাচারি ও ব্যবসায়ীরা।
এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় করোনা বিষয়ক সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করতে গিয়ে ফরিদপুরের সাথলা উপজেলায় পুলিশের সাথে স্থানীয় জনতার সংঘর্ষে একজন মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছেন।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এমন গুজবে শত শত মানুষ গিয়ে থানা ও উপজেলা কমপ্লেক্স ঘেরাও করেন।
পুলিশের ভাষ্য,গতকাল সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সালথায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা শটগানের গুলি,কাঁদানে গ্যাস এবং এক পর্যায়ে চাইনিজ রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/৬
- বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।