বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে কঠোর লক-ডাউন: প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন চায় সিপিডি
করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ঠেকাতে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। এই সময়ে চলতি বোরো মৌসুমে ফসল তুলতে যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনকে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ থেকে জারি করা ১৩ দফা বিধিনিষের মধ্যে একটিতে বলা হয়, বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মোট ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ফসল আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। এই পরিমাণ জমি থেকে এবার ২ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। যাতে এই কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটে সে বিবেচনায় বিধিনিষেধে এ বিষয়টিও অন্তর্ভূক্ত করে দেওয়া হলো।
এদিকে, বাংলাদেশে মহামারি করোনাভাইরাস রোধে আসন্ন লকডাউনে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ও আর্মড ফোর্স, সরকারের এজেন্সিগুলোকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামানোর দাবি জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সোমবার সিপিডি আয়োজিত ‘কোভিড অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ: কিভাবে সামলাবো’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে এ দাবি জানান গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, কলকারখানায়, বাজারে স্বাস্থ্যবিধি বিশেষ করে মাস্ক পরা সুনিশ্চিত করার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, এজন্য (স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে) আর্মড ফোর্স, সরকারের এজেন্সিগুলোকে ব্যবহার করতে হবে। সরকারের যেসব এজেন্সি রয়েছে, সেখানে লোকবল কম, প্রয়োজনে অন্যান্য এজেন্সি থেকে লোকবল নেয়া যেতে পারে। এলাকাভিত্তিক জোন ভাগ করে পর্যবেক্ষণ করা, যে মাস্ক ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।
তিনি বলেন, প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনী ও আর্মড ফোর্সকে ব্যবহার করা যেতে পারে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। পরিপালনগুলো কঠোরভাবে শিল্প-কারখানা হোক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হোক, এমনকি সাধারণ মানুষের চলাচলেও এনফোর্সমেন্টের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এটা এনফোর্সমেন্ট না হলে জারিমানা, এমনকি সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে প্রতিষ্ঠান বা কলকারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার মতো ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা এই কর্মকর্তাদের দেয়া যেতে পারে।#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার /১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।