সময় এসেছে আত্মনির্ভরতা ও প্রকৃত ভ্রাতৃত্বের: প্রতিবেশীদের প্রতি ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162014-সময়_এসেছে_আত্মনির্ভরতা_ও_প্রকৃত_ভ্রাতৃত্বের_প্রতিবেশীদের_প্রতি_ইরান
পার্সটুডে: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেশীদের প্রতি এক বার্তায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, এখন সময় এসেছে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্বকে সামনে রাখার।
(last modified 2026-08-08T06:08:28+00:00 )
আগস্ট ০৮, ২০২৬ ১১:৪০ Asia/Dhaka
  • ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
    ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি

পার্সটুডে: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেশীদের প্রতি এক বার্তায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, এখন সময় এসেছে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্বকে সামনে রাখার।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি তার এক্স (টুইটার) সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় লিখেছেন: ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত সামরিক শক্তির বিরুদ্ধেও তাদের প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেছেন: যখন মুসলিমরা একত্রিত ও সংহত থাকে, তখন তারা বিদেশী শত্রুদের সৃষ্ট যেকোনো চ্যালেঞ্জ শক্তিমত্তা নিয়ে ও দৃঢ়তার সাথে সরাসরি মোকাবিলা করতে পারে।

আরাকচি স্পষ্ট করে বলেছেন: এখন সময় এসেছে যে আমরা কেবল আত্ম-নির্ভর হব এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্বকে গ্রহণ করব। 
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দেশটির কর্মকর্তারা বিদেশি শক্তির পরিবর্তে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এ ছাড়া গতকাল (শুক্রবার) মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর আগে শুক্রবার ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছিলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্রমেই উপলব্ধি করছে যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ওই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা নতুন করে আঞ্চলিক সংলাপ শুরুর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ইতিমধ্যে দেখিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হলে প্রথমে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরতে হবে।

নানা মতভেদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক আলোচনা চলার মাঝামাঝি সময়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইহুদিবাদী ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত আগ্রাসন চালালে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং আগ্রাসনের প্রথম দিনেই  শহীদ হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ শীর্ষ-স্থানীয় অনেক সামরিক কর্মকর্তা। ইরানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিশুসহ বহু বেসামরিক বাড়িঘরের হাজার হাজার বেসামরিক ইরানি নাগরিক মার্কিন-ইসরায়েলি নৃশংসতা ও বর্বরতার শিকার হয়ে শহীদ হয়।  এর জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ।

এর আগে গত বছরের জুন মাসেও কূটনৈতিক আলোচনা চলার মাঝামাঝি সময়ে ইহুদিবাদী ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসন চালিয়েছিল এবং ইরান মার্কিন আর ইসরায়েলি অবস্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এর কঠোর জবাব দিলে যুদ্ধ ১২ দিন পর থেমে যায়।

এ বছর পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর মাধ্যমে সরাসরি সামরিক সংঘাত  কিছুকাল বন্ধ হয় এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয় ও ইরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রনালি উন্মুক্ত রাখে এই প্রণালির ওপর নিজ কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্র অব্যাহত রাখার শর্তে। তবে পরে সমুদ্র নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের অজুহাত দেখিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের কোনো কোনো অঞ্চলে হামলা চালায় ও ১৭ দিন ধরে যুদ্ধ অব্যাহত থাকে। ফলে আলোচনা আবারও বন্ধ হয়ে যায় এবং ইরান আবারও হরমুজ প্রনালি বন্ধ করে দেয় শত্রু-পক্ষ ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য।   #

পার্সটুডে/এমএএইচ/০৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।