সালমান মুক্তাদির ইস্যুতে সরব রাজনৈতিক অঙ্গন: জামায়াত-এনসিপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া
-
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় একের পর এক প্রতিক্রিয়া আসছে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির থেকে শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং চাঁদাবাজি-দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
জামায়াত আমির: "এর শেষ হবে একদিন"
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলেন, "হ্যাঁ, এর শেষ হবে একদিন, ইনশাআল্লাহ।"
তিনি লেখেন, গভীর রাতে "জুলাইযোদ্ধা" ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে চাঁদাবাজদের হানা, ভাঙচুর, লুটতরাজ ও তাণ্ডব চালানো হয়েছে। রূপকভাবে তিনি মন্তব্য করেন, "মধু আহরণকারী চাঁদাবাজরা মৌচাক মনে করে ভিমরুলের চাকেও ঢিল ছুড়ে দেয়। তখন সেই ঢিল বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসে।" কর্তৃত্বশালীরা নিজেদের চাঁদাবাজদের কীভাবে সামলাবেন, একের পর এক এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম: "প্রধানমন্ত্রীর আসনে চাঁদা তোলার দুঃসাহস কাদের?"
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রোববার এক ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী আসনে চাঁদা তোলা বা সম্পত্তি দখলের দুঃসাহস কাদের হতে পারে। তিনি লেখেন, ভাঙচুর ও লুটপাটের পেছনে দুই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে— চাঁদা না দেওয়া অথবা সম্পত্তি দখল, এবং ঘটনাটি ঘটেছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর আসনে।
আইনি পথ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতাসীনদের এমন আচরণ কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বিএনপির চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব শুরু হয়েছে গত ৫ আগস্ট বিকেল থেকেই, এবং আওয়ামী লীগের "শোষণের সাম্রাজ্য" দখল করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি বরং তার পরিমাণ ও পরিসর বহুগুণ বাড়িয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার চাওয়া অর্থহীন হলেও চাঁদাবাজদের জিম্মিদশা থেকে দেশ মুক্তি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার কথা স্মরণ
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শনিবার দিবাগত মধ্যরাতের এই হামলার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি লেখেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে না পারলে গণঅভ্যুত্থানের আসল চেতনা ক্ষুণ্ন হবে। তার ভাষায়, দুর্বৃত্তরা স্টুডিওর সিসিটিভিসহ দামি শুটিং সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায় এবং ভেতরের জিনিসপত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।
জুলাই আন্দোলনে সালমান মুক্তাদিরের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, যখন অনেকে নীরব ছিলেন তখন সালমান মুক্তাদির প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আহত ছাত্র-জনতার চিকিৎসা ও আশ্রয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি নাগরিকদের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের ভয়ে বাস করতে হয়, তবে সেই পরিবর্তনের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি
এদিকে ইসিবি চত্বর ও র্যাডার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ, যা একের পর এক ঘটা এমন ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের প্রয়োজনীয়তাকেই তুলে ধরে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৭