মন্ত্রীর হাতে পিস্তল, দেহরক্ষীর লাথি: মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে তোলপাড়
https://parstoday.ir/bn/news/event-i164028-মন্ত্রীর_হাতে_পিস্তল_দেহরক্ষীর_লাথি_মাদকবিরোধী_অভিযান_নিয়ে_তোলপাড়
বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে দেখা যাওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অস্ত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
(last modified 2026-10-19T09:26:15+00:00 )
অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৫:৩৯ Asia/Dhaka
  • প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের হাতে পিস্তল
    প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের হাতে পিস্তল

বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে দেখা যাওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অস্ত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম আজ (রোববার) এ তথ্য জানান। দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনা মূল্যায়নের জন্য এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে (ডিসি)। তিনি পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবেন। তাতে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ডিএমপি আইনগত ব্যবস্থা নেবে। অভিযানে একজন মন্ত্রী পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না—এ প্রশ্নে ডিবিপ্রধান মন্তব্য করতে চাননি।

অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন–সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

তার দাবি, মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা থাকায় আত্মরক্ষার স্বার্থে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়।

রোববার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।

যা ঘটেছিল

গতকাল (শনিবার) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী এক হাতে হ্যান্ড মাইক ও অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নামছেন। পিস্তল উঁচিয়ে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...’। অস্ত্র তাক করে ‘অ্যাই দাঁড়াও, দাঁড়াও’ বলে একদল লোককে থামার নির্দেশও দেন। তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা তখন কয়েকজনকে ধরতে দৌড়াচ্ছিলেন।

ভিডিওর কিছু অংশে প্রতিমন্ত্রীর হাতের পিস্তল অস্পষ্ট (ব্লার) করা হলেও অন্য অংশে তা স্পষ্ট দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুজনের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু এবং একজন সরকারি দেহরক্ষী। ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে এক দেহরক্ষী এক তরুণকে লাথি মারেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদার প্রথম আলোকে জানান, লাথি দেওয়া ব্যক্তি প্রতিমন্ত্রীর সরকারি দেহরক্ষী।

ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।’ জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে।’

স্থানীয়দের বক্তব্য

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাভেল শিকদার জানান, গতকাল বেলা তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে তাঁরা সেখানে যান। স্থানীয় লোকজনের বারবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশকেও জানানো হয়েছিল, তবে পুলিশ পৌঁছাতে দেরি করে।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে আরেকটি পোস্টে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। পোস্টে বলা হয়, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, ছাড় পাবে না; নিজের দলের কেউ জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে। এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এলাকাবাসীর সহযোগিতাও চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

অস্ত্র বৈধ কি না, প্রশ্ন

ঘটনার পর নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে জানতে চাইছেন, প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ কি না। আর বৈধ হলেও একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে পারেন কি না। প্রশ্ন উঠেছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের যদি এভাবে অভিযান চালাতে হয়, তাহলে পুলিশের কাজ কী।

গতকাল রাতে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, তাঁর অস্ত্রটি বৈধ। নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হলফনামায় আগ্নেয়াস্ত্রের কথা উল্লেখ না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করার পর তিনি অস্ত্রটি নিয়েছেন। তখন হলফনামায় তা দেখানোর সুযোগ ছিল না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও ব্যবহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর ‘ক’ উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বৈধ অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন বা ব্যবহার করা যাবে, তবে অন্যের ভীতি বা বিরক্তি উদ্রেক করে—এমনভাবে তা প্রদর্শন করা যাবে না।।

পার্সটুডে/এমএআর/১৮