দলকে বিব্রত না করতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত: ইশরাক হোসেন
-
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন
বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে আজ (সোমবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ইশরাকের ভাষ্য, তাঁর কারণে দল বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়েন, সে জন্যই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ দুপুরে কয়েক শ নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে যান ইশরাক। নির্ধারিত সময়ের আগেই সেখানে পৌঁছালে নেতা-কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং তাঁর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় আবদুস সালাম হলে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান সমন্বয় করতে গিয়েছিলেন তিনি। নিজের নিরাপত্তার জন্য তাঁর সঙ্গে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
ঘটনার ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেভাবে খবর প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে তিনি হতাশ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন ইশরাক। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভাষ্য তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইশরাক জানান, ঘটনার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর উদ্দেশ্য, তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে যেন বিএনপি বিব্রত না হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ বাধাগ্রস্ত না হয়।
পদ ছাড়লেও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক। তিনি বলেন, এখন থেকে সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আরও বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন।
ইশরাকের ভাষায়, তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং মাদক নির্মূলে কাজ করার অনুমতি চেয়েছেন। এ কাজে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের আগে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের ইশরাক বলেছিলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে আরও জোরালোভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করবেন। তবে নতুন করে বিতর্ক তৈরি না হয়, এমন উপযুক্ত পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানান তিনি।
নিজের ফেসবুক পোস্টেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করেন ইশরাক। তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রীর পদে না থাকায় দলীয় কার্যক্রমে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করা এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল!’ এরপর মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অস্ত্র হাতে একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের অভিযানে অংশ নেওয়া এবং এর পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এর পরদিন রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সেখানেই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
তবে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজে যাতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে বিবেচনা থেকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পরও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার তাঁর ঘোষণা এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৮