টেকসই নিরাপত্তা অর্জনের জন্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য: পেজেশকিয়ান
-
• সাংহাই শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
পার্সটুডে- সংঘাতের মাধ্যমে নয় বরং পারস্পরিক আস্থা, দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সরকারগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই নিরাপত্তা অর্জন সম্ভব- এই বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা একযোগে জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানি ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডে জানিয়েছে, মঙ্গলবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার রাষ্ট্রপ্রধানদের ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন এবং স্থিতিশীলতা সুসংহত করতে ও একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দুই দশকেরও বেশি সময়ের কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট টেকসই নিরাপত্তা অর্জনের জন্য আস্থা অর্জন, দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সরকারগুলোর মধ্যে সহযোগিতাকে পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
সন্ত্রাসবাদ, সহিংস চরমপন্থা, মাদক পাচার, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সাইবার অপরাধ, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছাচারী নীতি এবং সামরিক শক্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো হুমকির কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক দেশ এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের বিভিন্ন কারণগুলো তুলে ধরেন।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের কথাও উল্লেখ করেন এবং এই কর্মকাণ্ডগুলোকে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেন। যুদ্ধের গতিপথ এবং পরবর্তী ঘটনাবলী ব্যাখ্যা করার সময় তিনি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর বিষয়ে ইরানের অবস্থানের ওপর জোর দেন।
তাঁর ভাষণের অন্য অংশে পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে দুটি পরস্পর সংযুক্ত ও অবিচ্ছেদ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার জন্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উভয় দিকেই যুগপৎ মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আন্তঃসংস্থা বাণিজ্যের উন্নয়ন, শুল্ক কার্যক্রমের সহজীকরণ, পরিবহন করিডোরের উন্নয়ন, বন্দর ও লজিস্টিক কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন, ট্রানজিট সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালীকরণের কথা উল্লেখ করেন।
পেজেশকিয়ান অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিনটি উদ্যোগের প্রস্তাব দেন, যার মধ্যে রয়েছে আর্থিক ও ব্যাংকিং সহযোগিতা গভীরতর করা এবং "সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ব্যাংক" প্রতিষ্ঠা, একটি রপ্তানি বীমা ও বিনিয়োগ ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা এবং একটি "সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা জ্বালানি কনসোর্টিয়াম" গঠন। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে, তিনি উদীয়মান হুমকি শনাক্ত করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করার জন্য এই সংস্থার একটি কৌশলগত নিরাপত্তা গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেন।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।