আমেরিকার মুখে নিরাপত্তা আর মানবাধিকারের বুলি দু:খজনক: দেহকান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i37266-আমেরিকার_মুখে_নিরাপত্তা_আর_মানবাধিকারের_বুলি_দু_খজনক_দেহকান
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকান বলেছেন আমেরিকার মুখে নিরাপত্তা আর মানবাধিকারের বুলি দু:খজনক। ইয়েমেন, সিরিয়া ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন হস্তক্ষেপের কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মে ০৩, ২০১৭ ১২:৫০ Asia/Dhaka

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকান বলেছেন আমেরিকার মুখে নিরাপত্তা আর মানবাধিকারের বুলি দু:খজনক। ইয়েমেন, সিরিয়া ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন হস্তক্ষেপের কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন।

“মাইন বিষয়ে সচেতনতা ও সহায়তা দিবস” উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গতকাল দেহকান আরও বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমেরিকা বিশ্বে একনায়কতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের সেই লক্ষ্য অর্জনের স্বার্থে ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন ওই নীতির শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত তিন কোটি মানুষ। তথ্য উপাত্ত থেকে জানা যায় এই সংখ্যা বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যার এক তৃতীয়াংশ। আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, সুদান, ইরাকসহ আরো বহু দেশে পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে আমেরিকা এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যা করেছে। ইরানও তাদের ওই যুদ্ধের শিকার।

আমেরিকা যে কেবল নিজেই সরাসরি ওই হত্যার জন্য দায়ী তাই নয় বরং ফিলিস্তিন, ইয়েমেনে শিশু হত্যাকারী ইসরাইল ও সৌদিআরবকেও তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা শীতল যুদ্ধের সময় থেকে এখন পর্যন্ত নিজেকে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ধারক বলে বিশ্বব্যাপী পরিচয় দিয়ে আসছে। অথচ আমেরিকার কৃতকর্মের ইতিহাস বলছে বিশ্বব্যাপী হত্যা,ধ্বংস আর মৃত্যুর আয়োজন ছাড়া তাদের অন্য কোনো ভালো কাজের উদাহরণ নেই।

১১ সেপ্টেম্বরের বিমান হামলার পর সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের ধুয়া তুলে তারা আফগানিস্তান এবং পরবর্তীকালে ইরাকে হামলা চালায়। অথচ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়। আসলে আমেরিকার মিথ্যাচারগুলো বেশ পরে স্পষ্ট হয়। ইরাকে যুদ্ধের অজুহাত হিসেবে গণবিধ্বংস মারণাস্ত্রের যে মিথ্যাচার তারা করেছিল, তার পক্ষে আজ পর্যন্তও তারা প্রমাণ দেখাতে পারে নি। ১১ সেপ্টেম্বরের পর মূলত মার্কিন হত্যা ও অপরাধযজ্ঞের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতার নামে তারা আলকায়েদা ও দায়েশসহ আরও বহু সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠি সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকার শ্লোগান আসলে অন্য দেশে আগ্রাসনের হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি সিরিয়ায় যে আমেরিকা ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সেখানেও ইরাকের মতোই রাসায়নিক অস্ত্র থাকার সেই পুরোণো বুলি নতুন করে আওড়ানো হয়েছে।

ইরাকের সাদ্দামের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় ইরানের ওপরও রাসায়নিক অস্ত্র হামলা করা হয়েছিল। যুদ্ধের সময় বহু মাইনও পেতে রাখা হয়েছিল। এইসবই আমেরিকার মানবতাবিরোধী অপরাধ ও বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের আগুণ জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রমাণ।

যুদ্ধ সমাপ্তির পর যুদ্ধের বহু নিদর্শন থেকে যায়। জাপানে মার্কিন পরমাণু বোমা হামলার পরিণতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছে জাপানিরা। আমেরিকা ইউরেনিয়ামবাহী নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরাক ও বলকান যুদ্ধেও। বিশ্ব পরিবেশ ও আবহাওয়া দূষণের ক্ষেত্রে আমেরিকা ব্যাপকভাবে দায়ী।  তাদের কারণে বহু নবজাতকের জন্ম হচ্ছে বিভিন্ন মারণব্যাধি নিয়ে। মাইন বিস্ফোরণে মৃত্যুর ঝুঁকি আজও রয়ে গেছে বিভিন্ন দেশে। এতোসব অপকর্ম যে দেশটি করে যাচ্ছে, সেই দেশটিই আবার নিজেকে মানবাধিকারের রক্ষক বলে দাবি করছে। অথচ কে না জানে এই আমেরিকাই বিশ্বমানবতা ও শান্তির অন্যতম প্রধান শত্রু।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/৩