জীবাশ্ম জ্বালানি ছেড়ে আবার পারমাণবিক শক্তির দিকে ফিরছে জাপান
https://parstoday.ir/bn/news/world-i155362-জীবাশ্ম_জ্বালানি_ছেড়ে_আবার_পারমাণবিক_শক্তির_দিকে_ফিরছে_জাপান
পার্সটুডে: কাশিওয়াযাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু হলে, মাত্র একটি রিয়্যাক্টর সক্রিয় করেই টোকিও অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ২ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হবে।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ ১৮:৪২ Asia/Dhaka
  • কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
    কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

পার্সটুডে: কাশিওয়াযাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু হলে, মাত্র একটি রিয়্যাক্টর সক্রিয় করেই টোকিও অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ২ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হবে।

আল জাজিরার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, জাপান বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি–কারিওয়ার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করেছে।  আজ (সোমবার), নিগাতা প্রদেশের সংসদ- গভর্নর হিদেউকি হানাজুমির প্রতি আস্থা ভোটের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এবং আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের লক্ষ্যে সরকারের নতুন নীতির অংশ। ২০১১ সালে ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর ৫৪টি রিয়্যাক্টর বন্ধের প্রায় ১৫ বছর পর এই নীতি গ্রহণ করা হলো।

ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী 'টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো)' এখন কাশিওয়াযাকি-কারিওয়া পুনরায় চালু করার দায়িত্বে রয়েছে। এনএইচকে'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি ৭টি চুল্লির মধ্যে প্রথমটি ২০ জানুয়ারি সক্রিয় করার পরিকল্পনা করেছে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় অনুমান করেছে যে, শুধুমাত্র এই একটি চুল্লিই টোকিও অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ২ শতাংশ বাড়াতে পারে। এখন পর্যন্ত দেশের ৩৩টি সক্রিয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি আবার চালু করা হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করার বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচির সমর্থন সত্ত্বেও সামাজিক বিরোধিতা এখনও প্রকট। নিগাতায় প্রায় ৩০০ জন বিক্ষোভকারী সমাবেশ করে “পারমাণবিক অস্ত্র নয়” এবং “আমরা পুনরায় চালুর বিরোধী”—এমন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

৫২ বছর বয়সী কৃষক ও পারমাণবিক বিরোধী কর্মী আয়াকো ওগা, যিনি ২০১১ সালে ফুকুশিমা থেকে আরও ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের সঙ্গে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন- তিনি বলেন, “আমরা পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি খুব কাছ থেকে দেখেছি। এই ঝুঁকি উপেক্ষা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”

জাপান গত বছর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা আমদানিতে ১০.৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করেছে, যা দেশের মোট আমদানির এক-দশমাংশের সমান। এই অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপ সরকারকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করার দিকে নিয়ে গেছে, যদিও জনসমাজ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতবিরোধ এখনও অব্যাহত রয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন