‘ইরানি হামলার হুমকি’: তুরস্ক থেকে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন ট্রাম্প
https://parstoday.ir/bn/news/world-i162126-ইরানি_হামলার_হুমকি’_তুরস্ক_থেকে_গোপনে_বিমান_বদল_করেছিলেন_ট্রাম্প
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে সম্ভাব্য ‘ইরানি হামলার হুমকি’র কারণে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
(last modified 2026-08-12T06:57:16+00:00 )
আগস্ট ১২, ২০২৬ ১২:৫৪ Asia/Dhaka
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প
    ডোনাল্ড ট্রাম্প

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে সম্ভাব্য ‘ইরানি হামলার হুমকি’র কারণে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে অন্য একটি ফ্লাইটে ও ভিন্ন একটি বিমানে যেতে হয়েছিল।

গত ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়। সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মীরাও ধারণা করেছিলেন, তিনি ওই বিমানেই যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিলডেনহলে যাবেন। কিন্তু বিমানে ওঠার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে গোপনে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ারফোর্স ওয়ানের মূল প্রবেশপথের বিপরীত পাশে একটি ক্যাটারিং ট্রাক নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাকটি উঁচু করে বিমানের একটি দরজার কাছে স্থাপন করা হলে সেই পথ দিয়ে ট্রাম্প ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী নেমে অপেক্ষাকৃত ছোট C-32A সামরিক বিমানে ওঠেন।

C-32A হলো পরিবর্তিত বোয়িং ৭৫৭, যা সাধারণত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের যাতায়াতেও ব্যবহৃত হয়। পুরো বিষয়টি স্বাভাবিক দেখাতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও আলাদাভাবে ওই বিমানে ওঠেন বলে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে সফররত সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মী মূল এয়ারফোর্স ওয়ানেই অবস্থান করেন। তাঁদের উড্ডয়নের আগে বিমানের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়। ফলে প্রেসিডেন্ট যে তাঁদের সঙ্গে ওই বিমানে নেই, তা তাঁরা জানতে পারেননি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে CBS News জানিয়েছে, ট্রাম্পের বিমান লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতেই শেষ মুহূর্তে তাঁকে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যে সামরিক বিমানে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেটিই তখন ‘বেশি ঝুঁকিতে’ ছিল। এর আগে আঙ্কারা সম্মেলন চলাকালে তিনি নিজেই বলেছিলেন, তিনি ছিলেন ইরানের ‘এক নম্বর নিশানা’।

ঘটনাটি ঘটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করে। একই সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক অবস্থানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছিল।

তুরস্কে যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে চড়েছিলেন। তবে ফেরার সময় ‘পুরোনো দিনের স্মৃতির খাতিরে’ পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আঙ্কারা বিমানবন্দরে সেই বিমানে ওঠার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়লেও পরে গোপনে তাঁকে C-32A-তে সরিয়ে নেওয়া হয়।

মিলডেনহলে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের বিমানের দরজা দিয়ে নামতে দেখা যায়। এরপর ওয়াশিংটনে ফেরার বাকি যাত্রার জন্য তিনি কাতারের দেওয়া একটি বিমানে ওঠেন।

গোপনে বিমান বদলের মাধ্যমে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হলেও, তাঁকে বহন করছে বলে ধারণা করা এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মীদের সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।