পরমাণু যুদ্ধের ‘দ্বিতীয় হামলা’: পাকিস্তান এবং ভারতের অবস্থান
https://parstoday.ir/bn/news/world-i30733-পরমাণু_যুদ্ধের_দ্বিতীয়_হামলা’_পাকিস্তান_এবং_ভারতের_অবস্থান
পাকিস্তান চলতি মাসের ৯ তারিখে প্রথমবারের মতো সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া বা এসএলসিএমের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এসএলসিএম বাবর-৩ নামের ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্যদিয়ে দেশটি ‘দ্বিতীয় হামলা’ চালানোর বিশ্বাসযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে পাক সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। এতে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পরমাণু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি করা হয়।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
জানুয়ারি ১২, ২০১৭ ১০:৩৬ Asia/Dhaka
  • পরমাণু যুদ্ধের ‘দ্বিতীয় হামলা’: পাকিস্তান এবং ভারতের অবস্থান

পাকিস্তান চলতি মাসের ৯ তারিখে প্রথমবারের মতো সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া বা এসএলসিএমের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এসএলসিএম বাবর-৩ নামের ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্যদিয়ে দেশটি ‘দ্বিতীয় হামলা’ চালানোর বিশ্বাসযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে পাক সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। এতে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পরমাণু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি করা হয়।

পাকিস্তানের এ দাবি সত্ত্বেও দ্বিতীয় হামলার সক্ষমতার দিক থেকে ভারত অনেক এগিয়ে রয়েছে বলে প্রতিরক্ষা বিষয়ক অন্যান্য খবর থেকে জানা গেছে।

যুদ্ধের সময় শত্রুর হামলায় স্থলভাগের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেলেও সাগরে থাকা সাবমেরিন থেকে চালানো পাল্টা পরমাণু আক্রমণকে 'সেকেন্ড স্ট্রাইক' বা ‘দ্বিতীয় হামলা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

দেশীয়ভাবে এসএলসিএম বাবর-৩ তৈরি করা হয়েছে বলে পাকিস্তান দাবি করেছে। সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়ার পর নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছিল পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর। ভারত মহাসাগর থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে জানানো হলেও উৎক্ষেপণের সুনির্দিষ্ট স্থান জানানো হয় নি।

এছাড়া, এসএলসিএম পরীক্ষার জন্য পাকিস্তান কী ধরণের সাবমেরিন ব্যবহার করেছে তাও প্রকাশ করা হয় নি। কিন্তু ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, পাক নৌবাহিনীতে খালিদ শ্রেণি নামে পরিচিত আগোস্টা ৯০বি শ্রেণির সাবমেরিনকে এ পরীক্ষায় ব্যবহার হয়েছে। এছাড়া, বাবর-৩ ছোঁড়ার জন্য উপযোগী করে তুলতে খালিদ শ্রেণির সাবমেরিনে বড় ধরণের সংস্কার করতে হয়েছে।

পাকিস্তানের বাবর-২ নামের ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ-ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে সংস্কার করে সাবমেরিন থেকে ছোঁড়ার উপযোগী বাবর-৩ নির্মাণ করা হয়। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি উন্নত সংস্করণের বাবর-২ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

এদিকে, গত আগস্টে ভারতের পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন আইএনএস অরিহন্ত থেকে কে-৪ এসএলবিএম’র পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পরীক্ষা প্রায় নীরবে সম্পন্ন করেছে ভারত। কে-৪ পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার বলে জানানো হয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা এবং উপগ্রহ সংক্রান্ত বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে বাবর-৩’র পরীক্ষা নিয়ে একটি প্রশ্ন তুলেছে ভারতীয় নিউজ চ্যানেল টাইমস। এতে দাবি করা হয়েছে, বাবর-৩ পরীক্ষার ভিডিও প্রকাশের ক্ষেত্রে চালাকির আশ্রয় নিয়েছে পাকিস্তান। ক্ষেপণাস্ত্রের যাত্রাপথের প্রকৃত ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের বদলে এতে কম্পিউটার গ্রাফিকস যোগ করা হয়েছে বলে খবরে দাবি করা হয়।#

পার্সটুডে/মূসা রেজা/