'বিরোধী দলগুলো একত্রে মাঠে নামলে সরকার সাত দিনও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না'
গণতন্ত্র পেতে গণ-যুদ্ধে নামুন-ফখরুল, লাশ ফেলার ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি-ওবায়দুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশের সব জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে। এখন আমরা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করতে পারবো।'
‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার' দাবিতে শুক্রবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, 'আমরা দেশের সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আলোচনা করছি। আমরা বিশ্বাস করি, অধিকাংশ দল দেশপ্রেমী, গণতন্ত্রকামী এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'বর্তমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশের সব রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি যুদ্ধে নামতে হবে। তাহলে দেশে গণতন্ত্র ফিরে পাবো। ওদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দাবী করেছেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদল রাজপথে আন্দোলনের সূচনা করেছে।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ-সমাবেশে ডঃ খন্দকার মোশাররফ বলেছেন, ‘আমাদের কথা পরিষ্কার, ছাত্রদল রাজপথে আন্দোলনের সূচনা করে ফেলেছে। সে আন্দোলনকে আগামী দিনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অভিভাবক হিসেবে বিএনপি ছাত্রদলের পাশে আছে। শত চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় সন্ত্রাসীদের সেই আন্দোলন থেকে বাঁচাতে পারবে না।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করা অনির্বাচিত সরকারের ইন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।’
ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আজকে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের লাঠি দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে সমর্থন দিয়ে তাদের (ছাত্রলীগ) লেলিয়ে দিচ্ছেন, আপনারা (ক্ষমতাসীনরা) আপনাদের কথা চিন্তা করেন। যারা করছে তাদের পরিণতি কী হবে অতীতে আমাদের কাছে বহু উদাহরণ রয়েছে। এর পরিণতি শুভ হবে না।’
ক্যাম্পাসে লাশ ফেলার ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি ; ওবায়দুল কাদের
ওদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ ঠেকাতে না পেরে বিএনপি এখন সেতু উদ্বোধনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসে লাশ ফেলার ষড়যন্ত্র করছে।
শুক্রবার (২৭ মে) নিজ বাসভবনে ব্রিফিংকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্ণফুলী টানেলসহ মেগা প্রকল্পগুলো দেখে বিএনপি নেতাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। পলিটিক্যাল হ্যালুসিনেশনে ভুগতে থাকা বিএনপি মহাসচিব একের পর এক মিথ্যাচার করেই যাচ্ছেন।
অলি আহমদের বিবৃতি
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ (বীর বিক্রম)আজ এক বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ ‘সন্ত্রাসী হামলার’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী লীগ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিজেদের একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের উপর হামলা, মামলা ও আক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’
সরকারকে সাত দিনের চ্যালেঞ্জ
বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামলে সরকার সাত দিনও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
বৃহস্পতিবার (২৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আর একটিও গুম নয়, নিষ্ঠুর সরকারকে না বলুন’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি বলেন, এই গজব সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হলে সব বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এখনই মাঠে নামতে হবে। কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার, গুম হওয়া স্বজনদের ফিরে পাওয়ার জন্য সব রাজনৈতিক দলকে শপথ নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সরকারকে আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি— সব বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামলে সরকার সাত দিনও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, পদ্মাসেতু উদ্বোধন করে ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না। এই পদ্মাসেতু নির্মাণ করতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। তার হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গুণ্ডারা যে কাণ্ড ঘটিয়েছে, তা বিশ্বের মানুষ দেখেছে। অথচ গুণ্ডাদের রক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে বললেন, তিনি কিছু জানেন না। টেলিভিশনের পর্দায়, ক্যামেরাম্যানদের স্টিল ছবিতে যাদের দেখা গেল, তারা কারা? তাদের পরিচয় দেন। আমরা জানি, আপনার পরিচয় দিতে পারবেন না। আপনাদের ওপর জনগণের অভিশাপ লেগে গেছে। বেশি দিন আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।
সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যেহেতু এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, তাই সরকার বেপরোয়া হয়ে গেছে। সরকার জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী নয়। স্বৈরতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করছে। জনগণের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সরকার দেশকে মগের মুল্লুক বানিয়ে ফেলেছে। তাই জাতিকে আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘হীরক রাজার মতো দড়ি ধরে মারো টান রাজা হবে খান খান’ অবস্থা করতে হবে। এজন্য সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে।
এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজিয়েছে যে দেশ ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। মিথ্যাকে সত্য করার জন্য সরকার সামাজিক যোগাযোগে হাজার হাজার ফেক আইডি খুলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এর উদ্দেশ্য একটাই— ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। পুলিশ বাহিনীসহ সব বাহিনীকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে।#
পার্সটুডে/এআরকে/২৭