পাটকলের শ্রমিকদের আমরণ অনশন চলছে: অসুস্থ ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি
-
মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও নিয়মিত মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন
বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকেরা তাদের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা বাতিলসহ ১১ দফা দাবিতে আজ বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্রচণ্ড শীত ও ক্ষুধার কারণে শ্রমিকেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ১৫ জনকে ইতিমধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সমস্যা সমাধানে ঢাকায় মঙ্গলবার বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। এ জন্য শ্রমিকেরা অনশন অব্যাহত রেখেছেন। যতই কষ্ট হোক, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।
পরিষদের নেতারা বলেন, পূর্বঘোষিত এই অনশন কর্মসূচিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের মধ্যে ৮টি অংশ নিচ্ছে। শুধু যশোরের জেজেআই আন্দোলনের অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না।
শ্রমিকদের ১১ দফা দাবির মধ্যে আছে, বকেয়া মজুরি পরিশোধ, পিচ রেটে (ঘণ্টা অনুযায়ী মজুরি) শ্রমিকদের গড় মজুরি দেওয়া, বকেয়া থাকা অবসর ও মৃত্যু বিমার টাকা পরিশোধ করা, নিজ নিজ মিলের পিএফ ফান্ডের টাকা আবার ওই ফান্ডে ফেরত দেওয়া, মৃত্যুজনিত শ্রমিকদের বিমা দাবি ৩৬ মাস হিসেবে পরিশোধ করা, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত সব শ্রমিক -কর্মচারীদের পুনর্বহাল করা, শ্রম আদালত ও আপিল ট্রাইব্যুনালের যে কোনো রায় পুনর্বহাল রাখা, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ী করা, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে শ্রমিকদের কাজ বণ্টন করা, মিলের কর্মচারীদের নিয়োগ আবার মিলের কাছে হস্তান্তর করা, চাহিদা অনুযায়ী পাটের মৌসুমে পাট কেনার জন্য মিলগুলোকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া, পাট শিল্পকে কৃষি শিল্পে রূপান্তর করে ওই শিল্পের সব ধরনের সুযোগ দেওয়া, পাটের বাধ্যতামূলক মোড়কজাত নীতিমালা বাস্তবায়ন করা, বিদেশে পাটপণ্য বিক্রির জন্য দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া, মিলগুলোর আধুনিকায়ন করা এবং আলিম জুট মিলের শ্রমিকদের ৪০ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ১১ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।