বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন স্থগিত থাকলেও প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ থেমে নেই
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i91730-বাংলাদেশে_স্থানীয়_নির্বাচন_স্থগিত_থাকলেও_প্রার্থীদের_মধ্যে_সংঘর্ষ_থেমে_নেই
করোনার কারণে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্থগিত থাকলেও প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ থেমে নেই। গতকাল (শনিবার) নরসিংদী, পিরোজপুর ও মাদারীপুর জেলায় আলাদা তিনটি সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত পুলিশসহ ৭০ জন আহত হয়েছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মে ১৬, ২০২১ ১৫:২৪ Asia/Dhaka
  • পিরোজপুরে সংঘর্ষে আহতরা হাসপাতালে
    পিরোজপুরে সংঘর্ষে আহতরা হাসপাতালে

করোনার কারণে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্থগিত থাকলেও প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ থেমে নেই। গতকাল (শনিবার) নরসিংদী, পিরোজপুর ও মাদারীপুর জেলায় আলাদা তিনটি সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত পুলিশসহ ৭০ জন আহত হয়েছেন।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ফায়েজ উল্লাহ (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গতকাল নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মাঝেরচর গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফায়েজ উল্লাহ মাঝেরচর গ্রামের জরুন মিয়ার ছেলে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঁনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোসলেম মিয়ার সর্মথক ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হযরত আলীর সর্মথকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ঈদের পর চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির কথা থাকলেও কথা কাটাকাটির জের ধরে শনিবার উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় টেঁটার আঘাতে ফায়েজ উল্লাহ গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ সংঘর্ষে দুই গ্রুপের আরও ৩০ জন আহত হয়েছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পিরোজপুরে সংঘর্ষ

পিরোজপুরের কদমতলা ইউনিয়নে দুই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে শনিবার রাতে সংঘর্ষে পুলিশ পরিদর্শক ও দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ১০ জনকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. হানিফ খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী মো. সিহাব হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. সোবাহান হোসেন ও এক পুলিশ সদস্যসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।

আহত স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব শেখ জানান, রাত সোয়া ৮টার দিকে কদমতলা বাজারে নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর হানিফ খান তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অতর্কিতে তার লোকজনের ওপর বোমা, গুলিবর্ষণসহ সশস্ত্র হামলা করে। এতে তাদের ১০-১২ জন আহত হয়। আহতদের পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. হানিফ খান এ হামলায় তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি ওই রাতে কদমতলা বাজারে থাকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের নিয়ে কথা বলছিলাম। এমন সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিহাব হোসেনের নেতৃত্বে তার ২৫-৩০ জন কর্মী এসে আমাকেসহ আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমার আট কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ জ ম মাসুদুজ্জামান মিলু এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইটপাটকেল নিক্ষেপে থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. সোবাহান হোসেনসহ এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। 

মাদারীপুরে সংঘর্ষ

ওদিকে, মাদারিপুর জেলার শিবচর উপজেলায় কুতুবপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৫ মে) রাত ৮ টার দিকে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সংঘর্ষে ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মাদবর ও সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বেপারীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল।

করোনা সংক্রমণের কারণে স্থগিত হওয়া ইউপি নির্বাচনে ওই ইউনিয়নে আতিকুর রহমান মাদবর ও মনোয়ার হোসেন বেপারী দুজনেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার হোসেন বেপারী, শাহাদাৎ বেপারী, কাদির বেপারী, আলমগীর বেপারীসহ ৪ জনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।