র্যামন বিমানবন্দরের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ইলাতের পর্যটন শিল্পও ক্ষতির শিকার হবে
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জর্ডানের বন্দর ও ইসরায়েলের বিমানবন্দর বন্ধ
-
ইসরায়েল তথা অধিকৃত ফিলিস্তিনে র্যামন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
পার্সটুডে: জর্ডানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে, দেশটির কর্তৃপক্ষ আজ (রোববার) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আকাবা বন্দর পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের ইলাত শহরের উত্তরে অবস্থিত র্যামন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগত এলাকা এবং আকাবা উপসাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত অঞ্চলগুলো কিছুক্ষণ আগে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
জরুরি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জর্ডানের কর্তৃপক্ষ কৌশলগত আকাবা বন্দরের পুরো এলাকা বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে দখলকৃত ফিলিস্তিনের দক্ষিণে, ইলাত শহরের নিকটবর্তী এবং আকাবা উপসাগরের পশ্চিম তীরে অবস্থিত র্যামন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
ইহুদিবাদী ইসরায়েলের চ্যানেল–১২ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার পর ইলাত ও আকাবা অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (ট্যাঙ্কার) বিমান মোতায়েন রয়েছে।
এরপর ইসরায়েলি চ্যানেল–১৩ জানায়, জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরের কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন ট্যাঙ্কার বিমানগুলো র্যামন বিমানবন্দর থেকে সরে গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও দাবি করেছে, দক্ষিণ জর্ডানের আকাবা শহরের দিকে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং এর কিছু অংশ ইসরায়েলের ভূখণ্ডে পড়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।
এই অঞ্চলগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, সেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা শুধু জর্ডান ও ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করবে না; একইসঙ্গে আকাবা উপসাগরের কৌশলগত বন্দরগুলো দিয়ে যাত্রী চলাচল ও জরুরি পণ্য পরিবহনও ব্যাহত করবে।
আকাবা শহরটি আকাবা উপসাগরের পূর্ব তীরে অবস্থিত এবং ইসরায়েল, সৌদি আরব ও মিসরের সীমান্তের কাছে অবস্থান করছে। অপরদিকে, ইলাত শহরটি উপসাগরের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
আকাবার কিং হুসেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইলাতের র্যামন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যকার আকাশপথের দূরত্ব মাত্র প্রায় ১২ কিলোমিটার, আর সড়কপথে এই দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটারেরও কম।
২০১৯ সালে ৪৫৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত র্যামন বিমানবন্দরটি জর্ডান সীমান্ত থেকে মাত্র আধা মাইল দূরে হওয়ায় শুরু থেকেই জর্ডানের কর্মকর্তারা এর বিরোধিতা করে আসছেন।
উল্লেখ্য, এসব ঘটনা ঘটেছে এমন সময়ে, যখন এর এক ঘণ্টারও কম আগে জর্ডান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন দূতাবাসের সেই দাবি অস্বীকার করেছিল, যাতে বলা হয়েছিল আকাবা বন্দর ও বিমানবন্দর খালি করে দেওয়া হয়েছে।
জর্ডান সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-মোমানি ওই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আকাবা বিমানবন্দর বা বন্দর খালি করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং উভয় স্থাপনাই স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তবে কিছুক্ষণ পর আকাবা উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হলে জর্ডানের কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত বন্দর এলাকা বন্ধ করতে বাধ্য হয়, যা পরিস্থিতির অবনতি এবং হুমকির গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়।
সরকারের আগের ঘোষণার সঙ্গে পরবর্তী বাস্তব পদক্ষেপের এই অসঙ্গতি জর্ডানের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে গোয়েন্দা সমন্বয়ের দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জর্ডানের ভঙ্গুর অর্থনীতি, যা ব্যাপকভাবে কৌশলগত আকাবা বন্দরের কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল, এখন নজিরবিহীন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
আকাবা বন্দর দেশটির একমাত্র সমুদ্রবন্দর এবং আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার। ফলে এর কার্যক্রমে যেকোনো বিঘ্ন খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে এবং পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে, র্যামন বিমানবন্দরের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ইলাতের পর্যটন শিল্পও ক্ষতির শিকার হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এমন দিকে এগোচ্ছে যে মনে হচ্ছে এই অঞ্চলের কৌশলগত সমীকরণ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় নতুন এক উত্তেজনার অধ্যায় শুরু হয়েছে, যার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ওপরও পড়তে পারে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।