'ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও তার ধ্বংসাত্মক নীতি প্রকাশ করেছে'
আমেরিকার প্রকৃত সমস্যা ইরানের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পোন্নয়নের সঙ্গে: বাকায়ি
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি
পার্সটুডে: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও ধ্বংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছে।
পার্সটুডে তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি আজ (সোমবার) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, “তারা আমাদের কয়েকটি প্রদেশের বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংসাত্মক নীতি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অবকাঠামোর ওপর হামলা মানে শুধু মানচিত্রের কয়েকটি স্থানে আঘাত করা নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ওপর হামলা।”
কূটনীতি ও আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আচরণ ও আলোচনায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রসঙ্গে বাকায়িবলেন, “আলোচনা নাকি যুদ্ধ—এই দ্বৈত ধারণার ওপর জোর দেওয়া দেশের জন্য উপকারী নয়। কূটনীতি প্রতিরক্ষার বিপরীত এবং প্রতিরক্ষা কূটনীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ—এমন ধারণাও সঠিক নয়। কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা একটি পাখির দুই ডানার মতো। এর যেকোনো একটি যদি নিজের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বও সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে না। আমরা যেমন দেশের রক্ষকদের নিয়ে গর্ব করি ও তাদের সমর্থন করি, তেমনি কূটনীতিকদেরও সমর্থন করা উচিত।”
ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে ইরানের অঙ্গীকার পালন স্থগিত
ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের প্রতিশ্রুতি স্থগিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “এই সমঝোতার মূলনীতি শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল—‘ প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার পালনের জবাবে অঙ্গীকার পালন’। যতদিন অপর পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেছে, ততদিন আমরাও করেছি। আমরা কখনোই প্রথমে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিনি। কিন্তু যখন তারা তাদের অঙ্গীকার লঙ্ঘন করল, তখন আমরাও ঘোষণা করেছি যে আমরা আর তা বাস্তবায়ন করব না। কোনো সমঝোতার মূল্য তখনই থাকে, যখন উভয় পক্ষ তা মেনে চলে; অন্যথায় তা কেবল কাগজে লেখা কয়েকটি শব্দ। আমরা এই নীতিই অনুসরণ করে এগিয়ে যাব।”
যুদ্ধ সম্প্রসারণের সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রের
অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাকায়ি বলেছেন, “যুদ্ধ সম্প্রসারণের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার এবং তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ওপর জোর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কোনো দেশের সঙ্গে শত্রুতা নেই; আমরা সবাই প্রতিবেশী। আমরা আশা করি, আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং তাদের ভূখণ্ড থেকে একটি ইসলামী দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসন চালাতে দেবে না। আত্মরক্ষার বৈধ অধিকারের ভিত্তিতে আমরা নিজেদের রক্ষা করছি এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এর জবাব দেবে।”
দারখোভেইনে হামলা প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা ইরানের জ্ঞান ও শিল্পের সঙ্গে
খুজেস্তান প্রদেশের দারখোভেইন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) নীরবতা সম্পর্কে বাকায়ি বলেছেন, **“নিশ্চিতভাবেই এই নীরবতা ও উদাসীনতা সংস্থাটির প্রতি আমাদের আস্থা আরও দুর্বল করবে। তবে সংস্থাটি অবস্থান না নিলেও মূল বিষয়টি পরিবর্তিত হয় না। একটি দেশের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট প্রমাণ এবং দেখিয়ে দেয় যে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। দারখোভেইন স্থাপনাটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে নির্মিত হচ্ছিল। এই হামলা প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত সমস্যা ইরানের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পোন্নয়নের সঙ্গে।”
পার্স টুডে/এমএএইচ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।