মার্কিন সরকার নিজেই নিজের আইন লঙ্ঘন করছে
আমেরিকা যুদ্ধাপরাধকে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা করছে: বাকায়ি
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি
পার্সটুডে: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলোকে ধ্বংস করে যুদ্ধাপরাধকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বেসামরিক অবকাঠামো, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় লিখেছেন:
"কোনো আদেশই যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের বৈধতা দিতে পারে না। যুদ্ধাপরাধের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশের দোহাই দিলেও অপরাধীদের ফৌজদারি দায় থেকে মুক্তি মিলবে না।"
বাকায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী যুদ্ধ ও হত্যাযজ্ঞের প্রতি তাদের অদম্য আকাঙ্ক্ষার কারণে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মানবসভ্যতার নৈতিক ভিত্তির যা কিছু অবশিষ্ট রয়েছে, সবকিছুকেই বিসর্জন দিতে চায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেনছে, যে নীতিতে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের অনুমোদন দেওয়া হয়, তা স্পষ্টতই অবৈধ এবং অপরাধমূলক। তিনি যোগ করেন:
"এটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ এবং সমষ্টিগত শাস্তির শামিল; আন্তর্জাতিক আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইন—উভয় ক্ষেত্রেই এগুলোকে স্পষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত আইন বা ওয়ার ক্রাইমস অ্যাক্ট (War Crimes Act)-এর ধারা ২৪৪১-এর ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এসব অপরাধের কোনো তামাদি সীমা নেই যাতে অপরাধগুলো বৈধ হতে পারে।"
তিনি আরও বলেছেন, সামরিক বিচার-বিধির ধারা বা ইউনিফর্ম কোড অব মিলিটারি জাস্টিস (Uniform Code of Military Justice) এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুদ্ধ বিষয়ক আইন-নির্দেশিকা বা ম্যানুয়ালে (Law of War Manual) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রকাশ্য অবৈধ আদেশ পালন না করার আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে।
বাকায়ি জোর দিয়ে বলেছেন:
"ইরান দুষ্কর্ম, আগ্রাসন ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও অটল অবস্থানে রয়েছে।" #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।