‘যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের কল্যাণ চায় না’
আল-জাইদির তেহরান সফর আঞ্চলিক অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: ইরাকি বিশ্লেষক
-
তেহরানে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সফর, সঙ্গে ইরাকি সফর-সঙ্গী ও ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা
পার্স টুডে – ইরাকি অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বাসেম জামিল আনতুয়ান বলেছেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদির ইরান সফরকালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
পার্স টুডে, ইরনার বরাতে জানিয়েছে, ইরাকের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বাসেম জামিল আনতুয়ান প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সাম্প্রতিক তেহরান সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে তাঁর এই সফর ইরাকের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে বহুমুখী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আনতুয়ান আরও বলেন, ইরাকে বিপুল সংখ্যক ইরানি জিয়ারতকারীর আগমন বাগদাদ ও তেহরানের গভীর সম্পর্ক ও বন্ধনের পরিচায়ক। ইরান ইরাকের প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ, যার সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। এছাড়া, ইরান সবসময় ইরাকের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে এবং সংকটের সময় দেশটিকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছে।
বিদেশি চাপ থেকে চুক্তিগুলোকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান
ইরাকি এই অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরাকের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরাক ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। ইরাকের বিপুল সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। তাই দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সর্বোত্তম অংশীদার নির্বাচন করা এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তিগুলোকে বিদেশি চাপ ও হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত রাখা উচিত।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে ইরাকে ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে শিল্প, বাণিজ্য ও পরিবহনসহ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ পরিচালিত হওয়া জরুরি।
আনতুয়ান ইরাকের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে কোনো বিদেশি পক্ষের প্রতি পক্ষপাত না করে দেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, গত ২৫ বছরে অগ্রগতির যথাযথ প্রচেষ্টা না থাকায় এবং ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কারণে দেশটি শত শত অর্থনৈতিক প্রোটোকল ও চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
‘যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের কল্যাণ চায় না’
বাসেম জামিল আনতুয়ান জোর দিয়ে বলেছেন, বিভিন্ন চুক্তিকে শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রকল্পে রূপান্তর করা জরুরি। তিনি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের মঙ্গল চায় না।
উল্লেখ্য, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরকালে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে চারটি সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।