‘ককরোচ’ আন্দোলনের ঐতিহাসিক জয়: পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161662-ককরোচ’_আন্দোলনের_ঐতিহাসিক_জয়_পদত্যাগ_করলেন_ভারতের_শিক্ষামন্ত্রী
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মেডিকেল পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলা তীব্র আন্দোলন ও ‘ককরোচ’ (সিজেপি) আন্দোলনের চাপের মুখে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।
(last modified 2026-07-25T10:11:19+00:00 )
জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৬:০৫ Asia/Dhaka
  • ধর্মেন্দ্র প্রধান
    ধর্মেন্দ্র প্রধান

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মেডিকেল পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলা তীব্র আন্দোলন ও ‘ককরোচ’ (সিজেপি) আন্দোলনের চাপের মুখে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, "যন্তর মন্তরে এবং দেশজুড়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি; যাতে দেশবিরোধী শক্তিগুলো এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য অটুট থাকে, ভারতের কোনো শিক্ষার্থী আইনি জটিলতায় না পড়ে এবং আমাদের শিশুরা তাদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ দিতে পারে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং নায্য প্রত্যাশাকে আমি গভীরভাবে সম্মান করি। ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষার সংস্কারে আমি সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি।"

এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই দিল্লির যন্তর মন্তর ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনরত হাজার হাজার বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে বাঁধভাঙা উল্লাস শুরু হয়। প্রতিবাদস্থল ও আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট সেবা স্থগিত থাকা সত্ত্বেও এই সুসংবাদ দ্রুত আন্দোলনকারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, “ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা গণতন্ত্র। তিনি পদত্যাগ করেছেন, তবে আমাদের আরও দুটি দাবি রয়েছে। আমরা এভাবে চলে যাব না। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু যে শিশুদের পরিবারগুলো আত্মহত্যা করেছে, তাদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাদের এটি পেতেই হবে, ওই সব পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, গত ২০ তারিখে যেসব পুলিশ গুন্ডার মতো আচরণ করেছে, সেই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখবেন, তেলাপোকাদের (ককরোচ) সাথে লাগতে আসবেন না...”

আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিনটি প্রধান দাবি সরকারের সামনে রেখেছিলেন। এগুলো হলো— শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মঘাতী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া। সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর সিজেপি-র অন্য দাবিগুলো মেনে নেওয়া হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তারা অনড় ছিল। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার বৈঠকের কথা থাকলেও তার আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন এবং রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন।

এদিকে, এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৬ দিন অনশন করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সম্প্রতি সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি অনশন ভাঙলেও সিজেপি তাদের আন্দোলন চালিয়ে যায়, যার ফলে অবশেষে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এই প্রতিবাদের সমাপ্তি ঘটে।#

পার্সটুডে/এমএ‌আর/২৫