'আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়’: অপ্রতিমের বাবার আহাজারি
https://parstoday.ir/bn/news/event-i163236-'আর_কাউকে_যেন_আমার_মতো_সন্তান_হারাতে_না_হয়’_অপ্রতিমের_বাবার_আহাজারি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দুই দফা জানাজা শেষে আজ (রোববার) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
(last modified 2026-09-20T08:28:52+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:২৫ Asia/Dhaka
  • অপ্রতিমের প্রথম জানাজার আগে কথা বলছেন বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার
    অপ্রতিমের প্রথম জানাজার আগে কথা বলছেন বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দুই দফা জানাজা শেষে আজ (রোববার) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

অপ্রতিমের জানাজায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সহপাঠী, স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।

রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

প্রথম জানাজার আগে ছেলের নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার একটাই ছেলে ছিল। কুমিল্লার আবহাওয়ায়, কুমিল্লার আকাশের নিচে, আপনাদের ভালোবাসায়, আপনাদের স্নেহে ও বড় হয়েছিল। ওর বয়স ১৩ বছর।’

জানাজা শেষে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই। বর্তমান বিচারব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে। এই আস্থাটা যেন ব্রেক না হয়। আমার বিশ্বাস, ব্রেক হবে না এবং সুষ্ঠু বিচার হবে।’

গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার সময়ও ছেলেকে হারানোর বেদনা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স যখন দুই বছর, তখন সে এই এলাকায় এসেছে। আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অপ্রতিম আপনাদের কাছেই বড় হয়েছে। আপনাদের আদর-স্নেহ পেয়েছে, আপনাদের বাসায় খেয়েছে। তাই আপনাদের কাছেই অপ্রতিমকে সমাহিত করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের, সেটা আজ বুঝতে পারছি।’

নিখোঁজের পর উদ্ধার মরদেহ

অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সে। মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি অপ্রতিম। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের কাছে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো তদন্তাধীন।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন (১৯) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে আনাস নামের আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিচার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভে নামেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন লেখা সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যানজট কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের মধ্যে ছিল—‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, খুনিরে ফাঁসি দে’ এবং ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’।

এদিকে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জেলা পুলিশ। সেখানে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে।#

পার্সটুডে/এমএএআর/২০