গভীর সংকটে ফ্রান্স, আহত ৫০০ পুলিশ; বিক্ষোভের দাবানল ছড়ালো ইতালি ও আলবেনিয়াতেও
https://parstoday.ir/bn/news/event-i164088-গভীর_সংকটে_ফ্রান্স_আহত_৫০০_পুলিশ_বিক্ষোভের_দাবানল_ছড়ালো_ইতালি_ও_আলবেনিয়াতেও
পার্সটুডে: বহু বছর পর ফ্রান্স তার সবচেয়ে গুরুতর সামাজিক অস্থিরতার একটির মুখোমুখি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার অবনতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভ সহিংসতা, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।
(last modified 2026-10-19T13:35:42+00:00 )
অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৯:১৫ Asia/Dhaka
  • ২০২৬, ১৯ অক্টোবর; প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরের প্রবেশপথ অবরোধ ও  প্রতিবাদী  মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং পুলিশের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দৃশ্য।
    ২০২৬, ১৯ অক্টোবর; প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরের প্রবেশপথ অবরোধ ও প্রতিবাদী মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং পুলিশের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দৃশ্য।

পার্সটুডে: বহু বছর পর ফ্রান্স তার সবচেয়ে গুরুতর সামাজিক অস্থিরতার একটির মুখোমুখি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার অবনতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভ সহিংসতা, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।

এই অস্থিরতা রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশকে “গভীর অস্থিরতার” দিকে ঠেলে দিতে উগ্র বামপন্থীরা চেষ্টা করছে। আগের সপ্তাহান্তের বিক্ষোভ-সংলগ্ন সহিংসতার পর সোমবার এক যৌথ মন্ত্রিসভা সংকট বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

এএফপির (AFP) প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেকোর্নু বলেন, “একটি অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে এবং এমনকি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়সূচি কিংবা নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালানো হতে পারে।” তিনি এ বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে একটি “বিশেষ বৈঠক” করার ঘোষণাও দেন।

এদিকে ক্ষোভ ফ্রান্সের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির মিলান ও তুরিনসহ বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে একই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে আলবেনিয়ায় দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং শিক্ষার মান অবনতির অভিযোগে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

ফ্রান্সজুড়ে কয়েক ডজন শহরে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ মিছিলে অংশ নেন। প্রায় এক মাস ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং অপরিহার্য জনসেবার অবনতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ একত্রিত হয়ে এই আন্দোলনকে বৃহত্তর রূপ দিয়েছে।

প্রথমদিকে বিক্ষোভের মূল বিষয় ছিল স্কুলের পরিস্থিতি এবং শ্রমজীবী উপশহরগুলোতে শিক্ষক সংকট। পরে তা বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো বৃহত্তর দাবিতে বিস্তৃত হয়।

প্যারিসে পুলিশ ৮৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যা রাজধানীর জন্য নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, দেশজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১,৮০০ ছাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৫০০-র বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরাও আহত হয়েছেন এবং একজন অংশগ্রহণকারী হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে ছিল আবর্জনা ও লুট হওয়া পণ্য। ভাঙা সাইকেল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে, আর ভবন ও দোকানের সম্মুখভাগে আগুনে ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। মার্সেই ও লিয়োঁতেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে এবং উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের আরও বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

লিমোজ শহরে বিক্ষোভকারীরা ঐতিহাসিক টাউন হল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত। বোর্দোতে মুখোশধারীদের একটি দল এক স্থানীয় কর্মকর্তার বাসভবনে ঢুকে পড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শত শত দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর সকালে প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরের প্রবেশপথও শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেন। তারা বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানায় এবং “পুলিশি দমন-পীড়নের” প্রতিবাদ জানান। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ও দুটি শ্রমিক ইউনিয়ন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফলে জাদুঘরটি সকাল ৯টায় স্বাভাবিক সময়ে খুলতে পারেনি। প্রবেশপথের কাছে বিক্ষোভকারীদের টানানো এক নোটিশে লেখা ছিল, “আমরা গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আমরা বিশ্বের বৃহত্তম জাদুঘরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছি।”

ইতালি

ইতালির বিভিন্ন শহরেও ফ্রান্সের মতো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠায় সামাজিক অসন্তোষ যে ফ্রান্সের সীমা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

ইতালির বার্তা সংস্থা ANSA জানায়, মিলান ছিল সংঘর্ষের প্রধান কেন্দ্র। শহরের কেন্দ্রস্থল পিয়াজা দেল দুয়োমোতে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা তরুণরা পুলিশের দিকে আতশবাজি ও বোতল ছুড়ে মারে এবং ব্যারিকেড গড়ে তোলে, ফলে নিরাপত্তা বাহিনীকে সাময়িকভাবে পিছু হটে অতিরিক্ত বাহিনীর অপেক্ষা করতে হয়।

তুরিন, বোলোনিয়া ও বার্গামোতেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে। শুধু মিলানেই অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ২০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫০-র বেশি তরুণকে, যাদের অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

আলবেনিয়া

আলবেনিয়ায় বিক্ষোভ আরও স্পষ্ট রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষার মান অবনতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবি জোরদার হয়েছে দেশটিতে।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে রাজধানী তিরানায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন ও ব্যাংকে আগুন ধরিয়ে দেয়, রাস্তার পাথর উপড়ে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারে। এর জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, পানি-কামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে।

২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এবং গত বছর টানা চতুর্থ মেয়াদে জয়ের পর রামার জন্য এটিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ চললেও সেগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল।

আলবেনিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ৩৮৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়া কয়েক ডজন পুলিশ সদস্য ও বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। #

পার্স টুডে/এমএএইচ/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।