আমেরিকার সবচেয়ে বড় পরাজয়ের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে: আরব বিশ্লেষক
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161568-আমেরিকার_সবচেয়ে_বড়_পরাজয়ের_ক্ষণগণনা_শুরু_হয়েছে_আরব_বিশ্লেষক
পার্সটুডে: একজন আরব বিশ্লেষক বলেছেন, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এ সময়টি লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের ক্ষণগণনার সূচনা হতে পারে।
(last modified 2026-07-22T08:50:40+00:00 )
জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:৪১ Asia/Dhaka
  • প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

পার্সটুডে: একজন আরব বিশ্লেষক বলেছেন, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এ সময়টি লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের ক্ষণগণনার সূচনা হতে পারে।

রায় আল-ইয়াওম পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে আরব বিশ্লেষক আবদুল বারি আতওয়ান লিখেছেন, সংক্ষিপ্ত "গ্রীষ্মকালীন নিদ্রা" শেষে যখন আরব ও মুসলিম মধ্যস্থতাকারীরা বুঝতে পারলেন যে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে, তখনও তাদের কেউই তা প্রকাশ্যে নিন্দা করার সাহস দেখাননি। তার মতে, এর অর্থ হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে পরাজিত মনে করছেন এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের সেই পরাজয়ের চাপ থেকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পথ খুঁজছেন।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ট্রাম্পের বড় দুঃস্বপ্ন

আতওয়ান লিখেছেন, গত তিন দিনে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত ড্রোন হামলা। তার মতে, এই হামলাগুলো পাঁচ মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মার্কিন বাহিনীর হতাহতের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তিনজন সেনা নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন সেনাদের কফিনই ট্রাম্পের পতনের কারণ হতে পারে

আতওয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বা সিনেট নয়, বরং নিহত মার্কিন সেনাদের কফিনই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারে। তার দাবি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন এবং আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, ইরান ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পও তৃতীয় এমন প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।

জর্ডানে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদে ইরানের হামলা ইসরায়েলে উদ্বেগ সৃষ্টি 

আতওয়ানের মতে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জর্ডানের লক্ষ্যবস্তুতে ৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে এবং সেগুলো মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, এ ঘটনায় বিশেষ করে ইসরায়েলের সামরিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদি এসব ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের অন্যতম উন্নত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করতে পারে, তাহলে সেগুলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ভেদ করতে সক্ষম হতে পারে।

আতওয়ান উল্লেখ করেন, জর্ডানের আল-আজরাক বা আকাবা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো নাকাব মরুভূমির দিমোনা, কিংবা হাইফা, তেল আবিব, আশকেলন ও সাফেদ শহর থেকে মাত্র কয়েক দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সামনে আসছে নির্ধারক দিন

নিবন্ধের শেষে আতওয়ান লিখেছেন, আগামী দিনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ধারণী হতে পারে। তার মতে, এগুলো লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের ক্ষণগণনার সূচনা হতে পারে।

তিনি আরও বলেছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন—যেখানে তিনি বলেছেন, ইমাম সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ী তার সামরিক কমান্ডকে বর্তমান "যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়"-এমন পরিস্থিতির দ্রুত অবসানের নির্দেশ দিয়েছেন—তা বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।