আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর জয় বাংলাদেশের, টিকে রইল ফাইনালের আশা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i64518-আফগানিস্তানের_বিপক্ষে_শ্বাসরুদ্ধকর_জয়_বাংলাদেশের_টিকে_রইল_ফাইনালের_আশা
এশিয়া কাপের সুপার ফোরের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই আগামী শুক্রবার ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে খেলতে পারবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ ২৩:১৬ Asia/Dhaka
  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর জয় বাংলাদেশের, টিকে রইল ফাইনালের আশা

এশিয়া কাপের সুপার ফোরের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই আগামী শুক্রবার ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে খেলতে পারবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি স্টেডিয়ামে প্রথমে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে সাত উইকেটে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৪৯ রান। জবাবে আফগানদের থামতে হয় ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে। এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচে শেষ ওভারে হেরে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নিতে হলো আফগানদের। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ জিতলেও আর লাভ হবে না। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের জয়ী দল যাবে ফাইনালে।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ২০ রানের মাথায় ইহসানুল্লাহ জানাতের (৮) উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। ছয় রানের ব্যবধানে রহমত শাহ (১) রান আউট হয়ে ফিরে গেলে কিছুটা বিপাকে পড়ে যায় দলটি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদ ও হাশমতউল্লাহ ৬৩ রানের জুটি গড়ে এই বিপর্যয় কিছুটা সামলান। অবশ্য মাহমুদউল্লাহর শিকার হয়ে শেহজাদ (৫৩) হাফসেঞ্চুরি করেই সাজঘরে ফিরলে আবার কিছুটা চাপে পড়ে টেস্ট ক্রিকেটে নবীন সদস্য দলটি।

চতুর্থ উইকেটে শহিদী ও আসগর ৭৮ রানের জুটি গড়ে দলকে আবার স্বপ্ন দেখান। শহিদী ৭১ রানের মাথায় মাশরাফির শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আসগরও (৩৯) বাংলাদেশ অধিনায়কের শিকার হন।

তবে শেষ দিকে সামিউল্লাহ শানওয়ারী (২৩) ও মোহাম্মদ নবী (৩৮) দারুণ দুটি ইনিংস খেলেও পারেনি দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে।

মুস্তাফিজুর রহমান শেষ ওভারে দারুণ বল আফগানদের পরাজয় নিশ্চিত করে। শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৮ রান, হাতে ছিল ৪ উইকেট। প্রথম বল থেকে আসে ২ রান। শেষ ৫ বলে প্রয়োজন ছিল ৬ রান। তখনই দারুণ এক স্লোয়ারে রশিদ খানকে ফিরিয়ে দিলেন মুস্তাফিজ। পরের তিন বল থেকে আফগানরা নিতে পারে মাত্র ২ রান। জয়ের জন্য শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৪ রান। মুস্তাফিজ সেই বলটি ডট খেলালেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারিকে। স্নায়ু চাপ ধরে রেখে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩ রানে জিতল বাংলাদেশ।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে বাংলাদেশের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। দলীয় দলীয় ১৬ রানের মাথায় ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তর (৬) উইকেট হারিয়ে বসে। দুই রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফিরেন ওয়ানডাউনে নামা মোহাম্মদ মিঠুনও (১)।

দুর্দান্ত শেষ ওভারে জয়ের নায়ক মুস্তাফিজ

এরপর মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস তৃতীয় উইকেট জুটিতে কিছুটা দৃঢ়তা দেখান। দুজনে মিলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন। পরে অবশ্য লিটন ৪১ এবং মুশফিক ৩৩ রান করে সাজঘরে ফিরেন। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান সাকিব আল হাসান।

দলীয় ৮৭ রানের মাথায় পাঁচ উইকেট হারিয়ে দল যখন কিছুটা চাপে পড়ে তখন রুখে দাঁড়ান অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল কায়েস। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১২৮ রানের চমৎকার একটা জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখান তাঁরা।

মাহমুদউল্লাহ-ইমরুলের ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ

মাহমুদউল্লাহ ৮১ বলে ৭৪ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে গেলেও ইমরুল একপাশ আগলে রাখেন। তিন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে করেন ৭২ রান। অধিনায়ক মাশরাফি ৯ বলে ১০ রান করে আউডট হলেও মেহেদী হাসান মিরাজ চার বলে পাঁচ রানে ছিলেন অপরাজিত।

আফগানিস্তানের হয়ে আফতাব আলম ৫৪ রানে তিনটি এবং রশিদ খান ৪৬ রান দিয়ে এক উইকেট লাভ করেন।

৭৪ রান, এক উইকেট ও একটি ক্যাচ নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পেয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।#

 পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৪