জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i77796-জিয়া_চ্যারিটেবল_ট্রাস্ট_মামলায়_খালেদা_জিয়ার_জামিন_আবেদন_খারিজ
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আবারও খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টার দিকে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ ১৩:৩৭ Asia/Dhaka
  • বেগম খালেদা জিয়া
    বেগম খালেদা জিয়া

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আবারও খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টার দিকে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে বেলা ১১টায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে আদালত খালেদা জিয়ার সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট পড়ে শোনান। রিপোর্টে সাত সদস্যের বোর্ড তাদের মতামত দিয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা, ব্যাকপেইন ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যা রয়েছে। তবে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু আর্থ্রাইটিস ও ব্যাকপেইনের চিকিৎসার জন্য যেসব মেডিসিন পুশ করা দরকার, তার জন্য খালেদা জিয়া অনুমতি দেননি। এতে করে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। এ সময় আদালত বলেন, ‘আমরা এখন আদেশ দিব।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী আ্যডভোকেট জয়নুল আবেদীন এ সময় বলেন, ‘মাই লর্ড, আমাদের একটু আবেদন রয়েছে। তিনি কেন অনুমতি দেননি, তা জানা দরকার। আমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমরা তাঁর কাছে জানব, কেন তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন না।’

জবাবে আদালত বলেন, ‘এটা আমরা দিতে পারি না। এটার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আদেশ দিচ্ছি।’

এ সময় জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘মাই লর্ড, এক্ষুনি আদেশ দিয়েন না। আমাদের জানা দরকার কেন তিনি চিকিৎসা নেবেন না। প্লিজ, আমাদের অনুমতি দেন।’

জবাবে আদালত বলেন, ‘এটা আমরা দিতে পারব না। আমরা আদেশ দেব।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের বারবার আপনাদের কাছেই আসতে হয়। আমাদের সবকিছু বন্ধ করবেন না। আমাদের একটু অনুমতি দেন। আর এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য রাখেন।’

আদালত বলেন, ‘আমাদের একটি প্ল্যান রয়েছে। কোর্টের নিজস্ব প্ল্যান থাকে। সেই অনুযায়ী কোর্ট চলে।’

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড রিপোর্ট দিয়েছে। তিনি (খালেদা জিয়া) যদি চিকিৎসার অনুমতি না দেন, তাহলে মেডিকেল বোর্ডের কী করার আছে? উনার সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘ব্যাকপেইন ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যা রয়েছে। ঠিক আছে আমরা আদেশ দিই।’

পরে আবার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘মাই লর্ড, দুপুর ২টা রাখেন।’ পরে আদালত জামিনের আদেশের জন্য দুপুর ২টায় সময় দেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শুরু হয়।

গতকাল দুপুরে বেগম জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ক প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএসএমএমইউর আইনজীবী তানিয়া আকতার বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেন বলে জানান তিনি। তবে রিপোর্টে কি আছে তা জানা যায়নি। 

বেগম জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, রিপোর্ট সন্তোষজনক না হলে বেগম জিয়ার অসুস্থতার বাস্তবচিত্র বোঝাতে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির করার আবেদন করবেন।

অন্যদিকে দুদক আইনজীবী বলেন, অপরাধের গভীরতা বিবেচনায় আপিল বিভাগ বেগম জিয়ার জামিন খারিজ হয়েছে, আবারো হাইকোর্টে জামিন খারিজ হবে। মুক্তি পেতে হলে বেগম জিয়াকে চ্যারিটেবল ও অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় জামিন পেতে হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়া গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দল ও পরিবারের সদস্যরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে অন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে তাতে অনুমতি মেলেনি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন চেয়ে এর আগেও হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত—এমন তিন বিবেচনায় হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩১ জুলাই সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এর পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল বিভাগে যান।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন। আপিল বিভাগের ওই রায়ে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে দ্রুত ‘অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট’ দেয়ার পদক্ষেপ নিতে।

সেই রায় ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার পর হাইকোর্টে নতুন করে জামিন আবেদন করার উদ্যোগ নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/২৭ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।