দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়েছে আদালতে: ফখরুল
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i92942-দুর্ভাগ্যজনকভাবে_আমাদের_সবচেয়ে_বড়_ক্ষতিটা_হয়েছে_আদালতে_ফখরুল
বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপি’র এতদিনে উপলব্ধি হয়েছে যে, আদালতের মাধ্যমেই তাদের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে। তাই বেগম জিয়ার বিদেশ যাবার বিষয় নিয়ে আদালতে যাবার ব্যাপারে দলটি আস্থা রাখতে পারছে না। 
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ১১, ২০২১ ১১:৫৫ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপি’র এতদিনে উপলব্ধি হয়েছে যে, আদালতের মাধ্যমেই তাদের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে। তাই বেগম জিয়ার বিদেশ যাবার বিষয় নিয়ে আদালতে যাবার ব্যাপারে দলটি আস্থা রাখতে পারছে না। 

আজ (শুক্রবার) রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,  দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়েছে আদালতে। একেবারে রাজনীতি থেকে শুরু করে আইনগতভাবে আদালতে ক্ষতিটা হয়েছে।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করেছে আদালত। আর ম্যাডাম খালেদা জিয়ার প্রতি যদি চরম অন্যায় করে থাকে তাহলে আদালত করেছে। কোনও আইনেই কোনোভাবেই তার সাজা হতে পারে না এবং তার আবার বর্ধিত করা যেতে পারে না। আদালত সেটাই করেছে।

তিনি বলেন, ওই জায়গায় আদালতের প্রতি আস্থাটা আমাদের এতো কম যে, আমাদেরকে ধীরে সুস্থে চিন্তাভাবনা করে এর পর আদালতে যেতে হবে।

অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার

এ প্রসঙ্গে বেগম জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার রেডিও তেহরানকে বলেন, বেগম জিয়ার সাজা এখন স্থগিত রয়েছে, তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে কারাগারের বাইরে আছেন। তার চলাচল বা বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে শর্ত আরোপ করেছে সরকার। সরকার এ শর্ত শিথিল করতে পারে। এ প্রসঙ্গে  আদালতে যাবার দরকার হয় না। 

আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল আরো উল্লেখ করেছেন, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীকে গত ২৮ মার্চ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৩ই এপ্রিল পুরোনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার কারাবাস অন্যায়ভাবে দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। আবারও তাকে নতুন মিথ্যা মামলা দিয়ে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

অনুরূপভাবে, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরীকে গত পাঁচ বছর ধরে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারান্তরীণ রাখা হয়েছে। যখনই তিনি আদালত থেকে জামিন পান, তখনই পুরোনো বানোয়াট মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার কারাবাস দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। 

এ ছাড়া চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জয়পুরহাট, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপি এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিদিনই গ্রেপ্তার, কারান্তরীণ করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান রাখা হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব জানান, ২৬ মার্চ ২০২১ থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি এবং এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের প্রায় ২০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বা তাদের কোন কর্মসূচির সাথে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোন সম্পর্ক না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেফাজত সংশ্লিষ্ট মামলাতেও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে তাদেরকে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি অবিলম্বে লায়ন আসলাম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায়চৌধুরীসহ সারা দেশে গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম-খুন ইত্যাদি অপকর্মের মাধ্যমে দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মাধ্যমে দেশকে তারা কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী তৈরি করে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই সরকারের নিষ্ঠুর থাবা থেকে অন্যান্য বিরোধী দল ও মতের মানুষরাও রেহাই পাচ্ছেন না।

মির্জা ফাখরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে নিজেদের সৃষ্ট অনাচার এবং করোনার মহামারীর অভিঘাতে তাদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্যই বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম চালাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশে আজ গণতন্ত্র নেই, এই সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই দেশের ভয়াবহ সংকটে বা জনগণের দুর্দশা লাঘবে তাদের কোন উদ্যোগ নাই। তারা নিজেদের অনৈতিক শাসন টিকিয়ে রেখে দীর্ঘকাল ক্ষমতা ভোগ করতেই দমন-নিপীড়ণের স্টিম রোলার অব্যাহত রেখেছে।’

ওবায়দুল কাদের

সরকার কঠোরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে: ওবায়দুল কাদের 

ওদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দলের মুখপাত্র ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার হটানোও নামে বিএনপি যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখাচ্ছে। সেক্ষেত্রে জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার কঠোরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে।

শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতায় যেতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির নেতারা দলের কর্মীদের যুদ্ধের জন্য ডাক দিয়েছেন। তাদের এমন বক্তব্য একদিকে অগণতান্ত্রিক অন্যদিকে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পরিচয়। যুদ্ধের জন্য কর্মীদের এই ডাক দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতারা আবারও আগুনসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির আভাস দিচ্ছেন কি-না- সেটা এখন ভেবে দেখার বিষয়। যদি তাই হয়, তাহলে এই আগুনসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জবাব দিতে জনগণ প্রস্তুত রয়েছে। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।