'উত্তেজনা বৃদ্ধির আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান'
ফের ইরান-মার্কিন আলোচনা শুরু করতে পাকিস্তান ও কাতারের প্রস্তাব
-
ফের ইরান-মার্কিন আলোচনা শুরু করতে পাকিস্তান ও কাতারের প্রস্তাব
পার্সটুডে: পাকিস্তান ও কাতার আজ সোমবার এক যৌথ প্রস্তাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ৯ জুলাইয়ের আগের কূটনৈতিক অবস্থানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ দুই দেশের সরকার বলেছে, আলোচনা পুনরায় শুরু করতে এটি হবে প্রথম পদক্ষেপ।
মধ্যস্থতাকারী এই দুই দেশ ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়কেই সাম্প্রতিক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপগুলো প্রত্যাহার করে সংলাপের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ববর্তী পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগটি আজ সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি'র সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (Islamabad Memorandum of Understanding)-এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বাকায়ি বলেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রনীতি কঠোরভাবে পারস্পরিকতার নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিকতা—অঙ্গীকারের বিনিময়ে অঙ্গীকার। যতদিন অপর পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেছে, আমরাও আমাদের দায়বদ্ধতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছি। ইরান কখনোই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সূচনাকারী ছিল না। অপর পক্ষ তাদের অঙ্গীকার লঙ্ঘন করার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমরাও আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত করব।”
বাকায়ি আরও বলেছেন, “কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির মূল্য তখনই থাকে, যখন এর সব পক্ষ নিজ নিজ অঙ্গীকার মেনে চলে। অন্যথায় সেটি কেবল কাগজে লেখা কিছু শব্দমাত্র।”
তিনি দেশের ভেতরে কূটনীতি ও জাতীয় প্রতিরক্ষাকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতাও প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, এই দুটি রাষ্ট্র পরিচালনার পরিপূরক উপাদান।
বাকায়ির ভাষায়, **“কূটনীতি নাকি যুদ্ধ—এই কঠোর দ্বৈত ধারণার ওপর জোর দেওয়া আমাদের জাতীয় স্বার্থের জন্য উপকারী নয়। কূটনীতি প্রতিরক্ষাকে অস্বীকার করে বা সামরিক প্রতিরক্ষা কূটনীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ—এমন ধারণার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ইরানের জাতীয় স্বার্থের পূর্ণ সুরক্ষা, যা কখনও সামরিক প্রতিরক্ষার মাধ্যমে, কখনও কূটনীতির মাধ্যমে এবং প্রয়োজনে উভয় পথ একসঙ্গে অনুসরণ করে অর্জন করা হয়।” #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।