'অকৃতজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার অভাবের ধোঁয়া শেষ পর্যন্ত অকৃতজ্ঞদেরই চোখে গিয়ে লাগবে'
ইরানের প্রতি অকৃতজ্ঞতা ও শত্রুদের আতিথ্য দেয়ায় কুয়েতের তীব্র নিন্দা করলেন বাকায়ি
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
পার্স টুডে: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অতীতে কুয়েতের প্রতি ইরানের ঐতিহাসিক সহায়তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ইরানের শত্রুদের আশ্রয় দেওয়া এবং ইরান-বিরোধী কর্মকাণ্ডে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা অতীতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা এবং দূরদৃষ্টির অভাবের পরিচায়ক।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ১৯৯১ সালে কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার তেলকূপের আগুন নেভাতে যাওয়া ইরানি বিশেষজ্ঞদের একটি ঐতিহাসিক ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন:
"এটি ১৯৯১ সালে ইরাকের বাথিস্ট সাদ্দাম-সরকারের সেনাবাহিনী কুয়েত থেকে প্রত্যাহারের পর সেখানকার জ্বলন্ত তেলকূপের আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত সাহসী ও আত্মত্যাগী ইরানি বিশেষজ্ঞদের একটি ঐতিহাসিক ছবি।"
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র তিন বছর পরেও, যখন কুয়েত ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) অন্যান্য সদস্যদের সর্বাত্মক সমর্থনের কারণে সৃষ্ট ক্ষত তখনও তাজা ছিল, তখনও কুয়েত সরকারের অনুরোধে ইরান ৪৭ জন তেলশিল্প বিশেষজ্ঞের একটি দলকে আগুন নেভানোর অভিযানে অংশ নিতে পাঠায়। ওই দলটি বিশাল বুরগান তেলক্ষেত্রের ২৮টি তেলকূপের আগুন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক নথি ও প্রতিবেদনে ইতিহাসের বৃহত্তম তেলকূপ অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের একটি অংশ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
বাকায়ি জোর দিয়ে বলেন:
"মহৎ ইরানিরা আপনাদের জীবনকে গ্রাস করা আগুন নিভিয়েছিল, অথচ আজ আপনারা আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে অশুভ শক্তির আগুনেরই অংশ হয়ে গেছেন! ইরান সবসময়ই সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। কিন্তু অকৃতজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার অভাবের ধোঁয়া শেষ পর্যন্ত অকৃতজ্ঞদেরই চোখে গিয়ে লাগবে। যে কাঁটা বপন করে, সে কখনো আঙুর ঘরে তুলতে পারে না।" #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।