'স্মারকপত্র লঙ্ঘন বন্ধ করা ও ক্ষতিপূরণ না দেয়া পর্যন্ত আলোচনার সম্ভাবনা নেই'
আমেরিকার সাথে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করল ইরান
-
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি
পার্সটুডে: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি তার এক্স (টুইটার) সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় লিখেছেন: ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত সামরিক শক্তির বিরুদ্ধেও তাদের প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ স্মারকপত্র (এমওইউ) লঙ্ঘন বন্ধ করে এবং তার ভুলগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।
আজ (রোববার) তেহরানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় শীর্ষ এই ইরানি কূটনীতিক বলেন, "মধ্যস্থতাকারীরা এখনও আলোচনা পুনরায় শুরু করার উপায় খুঁজতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।"
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্মারকপত্র লঙ্ঘন বন্ধ না করা পর্যন্ত এবং এর লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ না দেয়া পর্যন্ত ইরান আলোচনা পুনরায় শুরুর কোনো সম্ভাবনা দেখছে না।
ওমানের সাথে ইরানের আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি বলেন, "ওমানের সাথে আলোচনা হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন সামুদ্রিক রুট নির্ধারণের বিষয়ে। আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি, এবং পুরনো রুটগুলো নতুন রুটের মাধ্যমে হবে প্রতিস্থাপিত। বিশেষজ্ঞরা রুটগুলোর বিষয়ে কাজ করছেন।"
তিনি আরও বলেছেন যে, ওমানের সাথে নতুন সামুদ্রিক রুট সম্পর্কে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর অর্থ এই নয় যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে।
"অবশ্যই, এর অর্থ হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া নয়। এই চুক্তি হতে পারে, কিন্তু হরমুজ প্রণালি খোলা বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষ," তিনি জোরালোভাবে বলেন।
নানা মতভেদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক আলোচনা চলার মাঝামাঝি সময়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইহুদিবাদী ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত আগ্রাসন চালালে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং আগ্রাসনের প্রথম দিনেই শহীদ হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ শীর্ষ-স্থানীয় অনেক সামরিক কর্মকর্তা। ইরানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিশুসহ বহু বেসামরিক বাড়িঘরের হাজার হাজার বেসামরিক ইরানি নাগরিক মার্কিন-ইসরায়েলি নৃশংসতা ও বর্বরতার শিকার হয়ে শহীদ হয়। এর জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ।
এর আগে গত বছরের জুন মাসেও কূটনৈতিক আলোচনা চলার মাঝামাঝি সময়ে ইহুদিবাদী ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসন চালিয়েছিল এবং ইরান মার্কিন আর ইসরায়েলি অবস্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এর কঠোর জবাব দিলে যুদ্ধ ১২ দিন পর থেমে যায়।
এ বছর পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর মাধ্যমে সরাসরি সামরিক সংঘাত কিছুকাল বন্ধ হয় এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয় ও ইরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রনালি উন্মুক্ত রাখে এই প্রণালির ওপর নিজ কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্র অব্যাহত রাখার শর্তে। তবে পরে সমুদ্র নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের অজুহাত দেখিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের কোনো কোনো অঞ্চলে হামলা চালায় ও ১৭ দিন ধরে যুদ্ধ অব্যাহত থাকে। ফলে আলোচনা আবারও বন্ধ হয়ে যায় এবং ইরান আবারও হরমুজ প্রনালি বন্ধ করে দেয় শত্রু-পক্ষ ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/০৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।