বিদেশিদের আগ্রাসন মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরোধক হলো জাতীয় শক্তি: বাকায়ি
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়িল বাকায়ি
পার্সটুডে-ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, জাতীয় শক্তির সব উপাদানই বিদেশিদের অতিরিক্ত দাবি, আধিপত্যের চেষ্টা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একমাত্র কার্যকর ও প্রতিরোধমূলক শক্তি।
মেহর নিউজের বরাতে পার্সটুডে জানায়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়িল বাকায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ১৩২০ ফারসি সালের (১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ) এই দিনে ইরানে মিত্রবাহিনীর সামরিক আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের বার্ষিকী উপলক্ষে লিখেছেন: ওই দখলদারিত্ব ছয় বছর স্থায়ী হয়েছিল এবং এতে ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগের শিকার হয়।
বাকায়ি বলেন, ৩ শাহরিভার (ফারসি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী) ইরানে একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে জড়িত শক্তিগুলোর হামলার ৮৫তম বার্ষিকী। ১৩২০ সালের ৩ শাহরিভার ভোরে, অর্থাৎ মাত্র ৮৫ বছর আগে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িত দেশগুলোর সামরিক বাহিনী মাত্র তিন দশকেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নির্মমভাবে ইরান দখল করে।
তিনি বলেন, তৎকালীন ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা ঘোষণা সত্ত্বেও-যেটিকে পরবর্তীতে মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ‘শক্তির যুক্তিতে পরিচালিত বিশ্বে নিরপেক্ষতার সোনার খাঁচা’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন-সোভিয়েত বাহিনী উত্তর ও পূর্ব দিক থেকে এবং ব্রিটিশ বাহিনী দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক থেকে স্থল ও আকাশপথে ইরানে হামলা চালায়।
কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের রাজকীয় বাহিনী ভেঙে পড়ে, গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল হয়ে যায় এবং পুরো ইরান বিদেশি বাহিনীর দখলে চলে যায়। আগ্রাসনের মাত্র ২২ দিন পর তৎকালীন শাহ কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই সিংহাসন ত্যাগ করেন এবং অপমানজনকভাবে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একটি দূরবর্তী উপনিবেশে নির্বাসিত হন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “সেই তিক্ত ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা ইরানিদের চেতনা থেকে কখনো মুছে যাবে না।” ইউরোপ বিশ্বের ওপর যে দুটি বিশ্বযুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, উভয় যুদ্ধেই দেশের ধ্বংস, অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ও ইরানিদের সম্পদ লুটের চেয়েও বেশি বেদনাদায়ক ছিল এমন একটি সম্মানিত ও শান্তিপ্রিয় জাতির মর্যাদায় আঘাত, যারা ওই যুদ্ধের উসকানিতে কোনো ভূমিকা রাখে নি।
তিনি আরও বলেন, “শক্তিশালী ইরান, যে গর্বের সঙ্গে ভয়াবহ সংকটগুলো মোকাবিলা করে এগিয়ে এসেছে, আজ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাগ্যনির্ধারক পরীক্ষার মুখোমুখি।”
বাকায়ি বলেন, “আমরা অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি যে জাতীয় মর্যাদা ও ইরানের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিরোধের দৃঢ় সংকল্প অপরিহার্য। আর জাতীয় শক্তির সব উপাদানই বিদেশিদের আধিপত্যবাদী আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধক।#
পার্সটুডে/এনএম/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন