বিশ্লেষণ | ইয়েমেন যুদ্ধে বহু বিমান ও ড্রোন হারিয়েছে সৌদি আরব
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i163368-বিশ্লেষণ_ইয়েমেন_যুদ্ধে_বহু_বিমান_ও_ড্রোন_হারিয়েছে_সৌদি_আরব
পার্সটুডে- ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের আকাশযানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শুধু হারানো সামরিক সরঞ্জামের হিসাব নয়; বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। উন্নত পশ্চিমা অস্ত্রে সজ্জিত সৌদি বাহিনী এমন একটি ইয়েমেনি বাহিনীর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, যার কোনো প্রচলিত বিমানবাহিনী নেই।
(last modified 2026-09-24T13:31:19+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৯:১৪ Asia/Dhaka
  • জঙ্গিবিমান
    জঙ্গিবিমান

পার্সটুডে- ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের আকাশযানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শুধু হারানো সামরিক সরঞ্জামের হিসাব নয়; বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। উন্নত পশ্চিমা অস্ত্রে সজ্জিত সৌদি বাহিনী এমন একটি ইয়েমেনি বাহিনীর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, যার কোনো প্রচলিত বিমানবাহিনী নেই।

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরব ১৭টি সিএইচ-৪, ৯টি উইং লং-২, ৬টি কারায়েল, ৩টি সিকার-৪০০, ১টি আকিনজি এবং ১টি এএমটি লুনা এক্স-২০০০ ড্রোন হারিয়েছে।

যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ৪টি টর্নেডো, ৪টি এফ-১৫ এবং ১টি টাইফুন ক্ষতিগ্রস্ত বা ভূপাতিত হয়েছে। হেলিকপ্টারের মধ্যে রয়েছে ১১টি অ্যাপাচি, ১টি ব্ল্যাক হক এবং ১টি এসএ-৩৬৫। এসব ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে কিছু দুর্ঘটনা ও কারিগরি ত্রুটির ঘটনাও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের জওফ, বাইদা ও তাইজ এলাকায় সৌদি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় চারটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকেও সৌদি আকাশ অভিযানের দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সৌদি বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান এফ-১৫-এর চারটি হারানোকে বড় ধরনের সামরিক ও প্রতীকী ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে ১১টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার হারানোও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি অ্যাপাচির আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার হিসেবে ধরলে শুধু এসব হেলিকপ্টারেই প্রায় ৪০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইয়েমেন যুদ্ধ সৌদি অর্থনীতিতেও বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। গত বছর দেশটি সামরিক খাতে ৮৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে এবং চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে সৌদি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ২৩ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহকে পরাজিত করার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু করেছিল। কিন্তু প্রায় ১১ বছর পরও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের আকাশযানের ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়েছে যে অত্যাধুনিক প্রচলিত সামরিক শক্তিও অসম যুদ্ধ, স্থানীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নতুন যুদ্ধকৌশলের মুখে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির শিকার হতে পারে। এই দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ক্ষতি যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান ও যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে।#

পার্সটুডে/এসএ/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।