'২০০৬ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর বিজয় আরব ও মুসলিম বিশ্বের জন্য আদর্শ'
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162188-'২০০৬_সালে_ইসরায়েলের_বিরুদ্ধে_হিজবুল্লাহর_বিজয়_আরব_ও_মুসলিম_বিশ্বের_জন্য_আদর্শ'
পার্সটুডে: ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলন ২০০৬ সালে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় হিজবুল্লাহর বিজয় ও আত্মত্যাগকে আরব ও মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ বা মডেল বলে প্রশংসা করেছে।
(last modified 2026-08-15T08:42:29+00:00 )
আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:২৩ Asia/Dhaka
  • ২০২৫ সালে লেবাননের বৈরুতে ২০০৬ সালের যুদ্ধের বার্ষিকীতে হিজবুল্লাহর পতাকা হাতে লেবাননের জনগণ
    ২০২৫ সালে লেবাননের বৈরুতে ২০০৬ সালের যুদ্ধের বার্ষিকীতে হিজবুল্লাহর পতাকা হাতে লেবাননের জনগণ

পার্সটুডে: ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলন ২০০৬ সালে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় হিজবুল্লাহর বিজয় ও আত্মত্যাগকে আরব ও মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ বা মডেল বলে প্রশংসা করেছে।

জুলাই বিজয়ের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার এক বিবৃতিতে আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরো হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম এবং লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের ৩৪ দিনের যুদ্ধ তার রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি শাসক-চক্রের সঙ্গে “কৌশলগত প্রতিরোধের ভারসাম্য এবং নতুন সংঘাতের নিয়ম” প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হিজবুল্লাহর বিজয় ওই অঞ্চলে মার্কিন-ইসরায়েলি ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে সহায়তা করেছিল, যার মধ্যে তথাকথিত “নতুন মধ্যপ্রাচ্য” পরিকল্পনাও ছিল।

আনসারুল্লাহ হিজবুল্লাহর শহীদ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর (র) প্রতিও শ্রদ্ধা জানায়। অভিনন্দন-বার্তায় আনসারুল্লাহ ফিলিস্তিনি ও ইয়েমেনি জনগণের প্রতি এ মহান শহীদ নেতার সমর্থন এবং বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের পক্ষে তার অবস্থানের কথা তুলে ধরেছে।

আনসারুল্লাহ বলেছে, “২০০৬ সালে এবং ২০২৩ সাল থেকে লেবানন ও হিজবুল্লাহর ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা প্রতিরোধ আন্দোলনটির ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন এবং লেবানন ও বৃহত্তর অঞ্চলে মার্কিন-ইসরায়েলি প্রকল্পের বিরোধিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।”

ইয়েমেনের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মাহদি আল-মাশাতও এই বার্ষিকী উপলক্ষে লেবাননের জনগণ, সেনাবাহিনী ও প্রতিরোধ আন্দোলনকে অভিনন্দন জানান।

আল-মাশাত বলেছেন, “সেনাবাহিনী, জনগণ ও প্রতিরোধের অর্জিত বিজয় ইসরায়েলের জন্য একটি ঐতিহাসিক পরাজয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।” তিনি “সেনাবাহিনী, জনগণ ও প্রতিরোধ”-এর সমীকরণ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি এই সমীকরণকে দুর্বল করার রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ “লেবানন বা এর স্থিতিশীলতার জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না।”

তিনি লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রতিরোধ যোদ্ধা ও লেবাননের সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার আহ্বান জানান।

[আনসারুল্লাহ: সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে ইয়েমেনি বাহিনী সৌদির তেলক্ষেত্র ও বিমানবন্দরে হামলা চালাবে

একজন সিনিয়র আনসারুল্লাহ কর্মকর্তা বলেছেন, সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি আরবের সব তেলক্ষেত্র, বিমানবন্দর এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন লক্ষ্যবস্তু করবে।]

২০০৬ সালের ১২ জুলাই দখলদার ইহুদিবাদী ইসরায়েল লেবাননের বিরুদ্ধে ব্যাপক আগ্রাসন শুরু করে। পরবর্তী ৩৪ দিন ধরে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়।

ইসরায়েলি হামলায় আবাসিক এলাকা, সড়ক, সেতু, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ স্থাপনা এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ১,০০০-এরও বেশি মানুষ শহীদ হন।

হিজবুল্লাহ অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশলের মাধ্যমে ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর মোকাবিলা করে এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েলকে ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন থেকে বিরত রাখে।

২০০৬ সালের ১৪ আগস্ট জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটে, যার ফলে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।